- ৩০ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট।
একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে একজন অধ্যাপকের স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে এবং ছয়জন শিক্ষককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিয়োগ পর্যালোচনার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামকে। অনুষদগুলোর ডিনরা এই কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন।
সিন্ডিকেট সভায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে আগের তদন্ত কমিটির দেওয়া স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাইব্যুনাল।
অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম এর আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০২২ সালে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবেও মনোনীত হয়েছিলেন।
এদিকে একই সভায় বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে ছয় শিক্ষককে প্রশাসনিক দায়িত্ব ও ক্লাস নেওয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মুহিত, ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক আবু সারা শামসুর রউফ, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন, পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিক শাহরিয়ার, নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আফরোজা শেলী এবং অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম।
ঢাবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এসব সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিন্ডিকেট সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া শিক্ষকদের শনাক্ত করতে আরও একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপাচার্য, দুই উপ-উপাচার্য এবং সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি অভিযোগগুলো যাচাই করবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকবৃন্দ’ প্ল্যাটফর্মের দেওয়া ২৩১ জন শিক্ষকের তালিকাও পর্যালোচনা করবে এই কমিটি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষক সংগঠন এসব অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলে সেই সংগঠনের কার্যক্রম নিয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে পরিচালিত হেকেপ প্রকল্পের গবেষণা কার্যক্রম ও অর্থ ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।
সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. তাজমেরি এস এ ইসলাম জানান, জুলাই আন্দোলন নিয়ে কটূক্তি করা এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থানের অভিযোগে কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অন্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকবৃন্দ’ ব্যানারে একদল শিক্ষক উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতাকারী ও আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতেই অভিযোগগুলো যাচাই করতে একাধিক কমিটি গঠন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।