- ২৯ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। রাজশাহী
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট সংগ্রহের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে চালু করা হয়েছে অনলাইন সার্টিফিকেট আবেদন সেবা। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই মূল সনদ, প্রভিশনাল সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সনদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। একই সঙ্গে অনলাইনে আবেদনের বর্তমান অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন এ সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আব্দুর রাজ্জাক।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ২৯ জুলাই থেকে অনলাইন সার্টিফিকেট আবেদন ব্যবস্থা রুয়েটের সব শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত করা হবে। প্রাথমিকভাবে মূল সনদ, প্রভিশনাল সার্টিফিকেট (পিপিসি), চতুর্থ সনদসহ বিভিন্ন ধরনের সার্টিফিকেটের জন্য এ প্ল্যাটফর্মে আবেদন করা যাবে।
নতুন ডিজিটাল পোর্টালে আবেদন জমা দেওয়ার পর থেকে সার্টিফিকেট হস্তান্তর পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের অগ্রগতি অনলাইনে দেখা যাবে। ফলে আবেদন কোথায় আটকে আছে বা কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা জানতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে খোঁজ নিতে হবে না। এতে সময় ও শ্রম সাশ্রয়ের পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
দীর্ঘদিন ধরে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে গিয়ে রুয়েটের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের নানা ভোগান্তিতে পড়তে হতো। আগে একটি সার্টিফিকেটের আবেদন সম্পন্ন করতে ৮৭টি স্থানে সশরীরে ক্লিয়ারেন্স বা স্বাক্ষর নিতে হতো। বিভিন্ন দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সময়মতো পাওয়া না গেলে প্রক্রিয়াটি আরও দীর্ঘ হতো।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করা অনেক শিক্ষার্থীকে সার্টিফিকেট সংগ্রহের জন্য আবার ক্যাম্পাসে ফিরে কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে হতো। নতুন অনলাইন ব্যবস্থার ফলে এ জটিলতা অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন আর এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরে ক্লিয়ারেন্স সংগ্রহ করতে হবে না। অনলাইনে আবেদন করেই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে পৃথক পৃথক ডিজিটাল সেবা চালু করা হলেও ভবিষ্যতে এসব সেবাকে এক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে ‘ভার্চুয়াল রুয়েট’ নামের একটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্য পূরণে একটি দল ইতোমধ্যে কাজ করছে। পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষাসেবা ধাপে ধাপে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।
ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, আগে শিক্ষার্থীদের ৮৭টি জায়গা থেকে ক্লিয়ারেন্স নিতে হতো। এ সমস্যা সমাধানে প্রথমে অনলাইন ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা চালু করা হয়। নতুন সার্টিফিকেট আবেদন সেবা চালুর ফলে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করার পাশাপাশি ট্র্যাকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদনের অগ্রগতি জানতে পারবেন।
তিনি আরও জানান, রুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এখন বিদেশে বসেও সহজে প্রয়োজনীয় ভেরিফিকেশন সেবা নিতে পারছেন। আগে এ ধরনের ভেরিফিকেশনে প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হলেও বর্তমানে ৫০০ টাকায় সেবা পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষার্থীদের চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে হল ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী মাসে সেটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ভবিষ্যতে অনলাইন সার্টিফিকেট আবেদন ব্যবস্থার সঙ্গে কুরিয়ার সেবা যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য ধাপে ধাপে নতুন ফিচার সংযোজন ও সফটওয়্যারটির উন্নয়ন করা হবে।
ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবু ইসমাইল সিদ্দিকীর তত্ত্বাবধানে রুয়েটের ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার রহমান সফটওয়্যারটি তৈরি করেছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার, সহকারী পরিচালক মো. আবু ইসমাইল সিদ্দিকী সাইফ, উপ-পরিচালক জেড. এইচ. এম. মঞ্জুর মোরশেদ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক ড. এইচ. এম. রাসেল, আইসিটি সেলের পরিচালক ড. মো. সামিউল হাবিব এবং রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. মাঈদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনলাইন সার্টিফিকেট আবেদন ব্যবস্থা ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। আগামী ২৯ জুলাই থেকে এটি সব শিক্ষার্থীর জন্য চালু হবে। নতুন এ সেবা রুয়েটের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী করার পাশাপাশি ‘ভার্চুয়াল রুয়েট’ বাস্তবায়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।