Thursday, July 30, 2026

পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরের নির্বাচনে সহিংসতা, নিহতের সংখ্যা ৩০ ছাড়ানোর দাবি


ছবিঃ পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে স্থানীয় আইনসভার নির্বাচনের প্রথম ধাপে বিশৃঙ্খলার পর ২৯ জুলাই পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ করেন (সংগৃহীত । আল জাজিরা /এএফপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে আঞ্চলিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ৩০ ছাড়িয়েছে বলে দাবি করেছে যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)। ভোট বর্জন করা এই সংগঠনটির অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালানোর পর পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

তবে পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবারের সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্য নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।

আঞ্চলিক নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণকে ঘিরে সোমবার মিরপুর, কোটলি ও ভিম্বর জেলায় সংঘর্ষ শুরু হয়। ভোটের দিন জেএএসি সমর্থকেরা মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করলে বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে।

বুধবার আরব নিউজ পাকিস্তানে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় জেএএসি সদস্য সরদার উমর নাজির দাবি করেন, সোমবারের মিছিলে সংগঠনটির অন্তত ২০ সমর্থক নিহত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, পরদিন রাওয়ালাকোট, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভের সময় আরও অন্তত ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

ভিডিও বার্তায় নাজির বলেন, তাদের আন্দোলনের দাবি ছিল শান্তিপূর্ণ এবং তারা কর্মসূচিকে অহিংস রাখার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের খবরকে ‘উদ্বেগজনক’ উল্লেখ করে ঘটনার নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডির জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক পিয়ার পান্ডিয়া বলেছেন, পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে চলমান সহিংসতা পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

এদিকে নির্বাচনের প্রথম দফায় ১৩টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) নয়টি আসনে জয় পেয়েছে। আগামী ২ ও ১০ আগস্ট আরও দুই দফায় ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে।

গত জুনে স্থানীয় সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় জেএএসিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এর পর থেকেই অঞ্চলটিতে বিক্ষোভ ও উত্তেজনা বাড়তে থাকে। চলমান পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং কার্যক্রম, সড়ক যোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে তথ্যপ্রবাহও সীমিত হয়ে পড়েছে।

পাকিস্তানের কর্মকর্তারা বিক্ষোভ দমনে নেওয়া পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সশস্ত্র এবং ভারত-সমর্থিত গোষ্ঠীর সদস্যরা যুক্ত হয়েছিল। তবে এ ধরনের অভিযোগ ভারত অতীতেও প্রত্যাখ্যান করেছে।

জেএএসিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে আইনবহির্ভূত বলে উল্লেখ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংগঠনটির মতে, কোনো গোষ্ঠীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও তা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী সহিংসতা চালানোর বৈধতা দেয় না। একই সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি চালু করা এবং সাংবাদিক ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের এলাকায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

নির্বাচন নিয়ে জেএএসির অন্যতম প্রধান দাবি হলো কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আইনসভা আসন বাতিল করা। সংগঠনটির সমর্থকদের অভিযোগ, কাশ্মীরের বাইরে বসবাসকারী এসব প্রতিনিধির আসন ব্যবহার করে পাকিস্তানের বড় রাজনৈতিক দলগুলো স্থানীয় আইনসভার ক্ষমতার ভারসাম্য নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার সুযোগ পায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক সরকার গঠনের জন্য পিএমএল-এনকে এসব সংরক্ষিত আসনের প্রতিনিধিদের সমর্থনের প্রয়োজন হতে পারে। ফলে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত এই আসনগুলোর বিষয়ে কার্যকর সমাধান বের করা নতুন সরকারের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে ভোট বর্জন না করা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও নির্বাচনের ফল নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন দল একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যালট বাক্স দখল ও ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছে। সব মিলিয়ে নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা, রাজনৈতিক বিরোধ এবং অনিয়মের অভিযোগ পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন