- ৩০ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে বাড়িতে ঢুকে ১৫ বছর বয়সি এক কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ঠাকুরগাঁও সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি করা হয়। এর আগে সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চিলারং গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
অভিযুক্ত মো. আলাউদ্দীন (৫৬) চিলারং ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কিশোরীর বাবা পেশায় দিনমজুর। ঘটনার দিন সকালে অসুস্থ বড় মেয়েকে চিকিৎসকের কাছে দেখানোর জন্য তিনি দিনাজপুরে যান। একই সময়ে কিশোরীর মা কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ির বাইরে ছিলেন। ফলে বাড়িতে একা ছিল কিশোরী।
অভিযোগ অনুযায়ী, দুপুর দেড়টার দিকে ইউপি সদস্য আলাউদ্দীন ওই বাড়িতে গিয়ে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলেন এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি চান। কিশোরী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার পর তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের বিষয়ে খোঁজ নেন।
একপর্যায়ে বাড়িতে আর কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তিনি কিশোরীর শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হাত দেন এবং তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ।
এ সময় কিশোরী আত্মরক্ষার জন্য খাটের নিচে লুকিয়ে পড়ে। পরে সুযোগ বুঝে ঘর থেকে বের হয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
পরে দিনাজপুর থেকে বাড়িতে ফিরে কিশোরীর বাবা মেয়ের গলায় আঁচড়ের দাগ এবং শারীরিক অসুস্থতা দেখতে পান। এরপর তাকে দ্রুত ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি তাদের কথা না শুনে উল্টো দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী বলেন, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ইউপি সদস্যকে গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতা চলছে।