Friday, February 6, 2026

আয়ের নতুন দিগন্ত খুলতে পারে রেডিটের এআই-ভিত্তিক সার্চ: ইঙ্গিত ব্যবস্থাপনার


প্রতীকী ছবিঃ রেডিট (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিট জানিয়েছে, তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত সার্চ প্রযুক্তি ভবিষ্যতে শুধু পণ্যের উন্নয়নেই নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের আয়ের বড় উৎস হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির চতুর্থ প্রান্তিক আয়সংক্রান্ত বৈঠকে এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন শীর্ষ কর্মকর্তারা।

রেডিট কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে সার্চ ফিচার থেকে সরাসরি কোনো আয় না হলেও এটি একটি বিশাল বাজার এবং ভবিষ্যতে রাজস্ব বৃদ্ধির বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে জেনারেটিভ এআই-নির্ভর সার্চ বেশিরভাগ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে প্রচলিত সার্চের তুলনায় আরও কার্যকর হতে পারে বলে তাদের বিশ্বাস।

রেডিটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিভ হাফম্যান বলেন, এমন অনেক প্রশ্ন আছে যেগুলোর একক কোনো নির্দিষ্ট উত্তর নেই। বরং ভিন্ন ভিন্ন মানুষের অভিজ্ঞতা ও মতামতের সমন্বয়ই সেখানে সবচেয়ে মূল্যবান। এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে রেডিট ইন্টারনেটের অন্যতম সেরা প্ল্যাটফর্ম।

তিনি আরও বলেন, প্রচলিত সার্চ সাধারণত নির্দিষ্ট লিংক বা সাবরেডিট খুঁজে বের করার জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে বড় ভাষা মডেল (LLM) ব্যবহার করে এআই সার্চ সেই কাজ আরও ভালোভাবে করতে পারে। ভবিষ্যতে এই দুই ধরনের সার্চ ব্যবস্থাকে একত্রিত করাই রেডিটের লক্ষ্য।

কোম্পানির দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, গত এক বছরে রেডিটের সার্চ ব্যবহারের সাপ্তাহিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩০ শতাংশ বেড়ে ৬ কোটি থেকে ৮ কোটিতে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, এআই-চালিত ‘রেডিট অ্যানসার্স’ ফিচারের ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে ১০ লাখ থাকলেও চতুর্থ প্রান্তিকে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখে।

রেডিট জানিয়েছে, এআই উত্তর প্রদানের অভিজ্ঞতা আরও আধুনিক করতে তারা কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে টেক্সটের পাশাপাশি ছবি ও অন্যান্য মিডিয়াভিত্তিক কনটেন্ট যুক্ত করার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি নিজেকে শুধু একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, বরং “উত্তরের প্ল্যাটফর্ম” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পরিকল্পনা করছে। এ লক্ষ্যে ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিক থেকে লগইন করা ও না করা ব্যবহারকারীর মধ্যে পার্থক্য তুলে দেওয়া হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিংয়ের মাধ্যমে প্রত্যেক ব্যবহারকারীর জন্য কনটেন্ট আরও ব্যক্তিগতভাবে উপস্থাপন করা হবে।

এর আগে ২০২৫ সালে রেডিট ঘোষণা দেয় যে, তারা তাদের এআই সার্চ ফিচার ‘রেডিট অ্যানসার্স’ এবং প্রচলিত সার্চ ইঞ্জিন একত্রিত করবে। চতুর্থ প্রান্তিকে কোম্পানিটি জানায়, এই একীভূতকরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। পাশাপাশি রেডিট অ্যানসার্সে নতুন পাঁচটি ভাষা যুক্ত করা হয়েছে এবং সার্চ ফলাফলে টেক্সটের বাইরেও বিভিন্ন ধরনের মিডিয়া যুক্ত করার পরীক্ষাও চলছে।

এদিকে রেডিটের কনটেন্ট লাইসেন্সিং ব্যবসাও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এই সেবার মাধ্যমে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান রেডিটের তথ্য ব্যবহার করে নিজেদের এআই মডেল প্রশিক্ষণ দিতে পারে। বিজ্ঞাপনবহির্ভূত এই খাত থেকে কোম্পানিটির আয় চতুর্থ প্রান্তিকে আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেড়ে ৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। পুরো ২০২৫ সালে এই আয় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি ডলারে।

সব মিলিয়ে, এআই প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে রেডিট যে নতুন কৌশল নিচ্ছে, তা ভবিষ্যতে কোম্পানিটির ব্যবসায়িক অবস্থান ও আয়ের ধারায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন