Wednesday, February 4, 2026

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘মল্টবুক’


প্রতীকী ছবিঃ মল্টবুক’ (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

প্রথম দেখায় জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটের অনুকরণ মনে হলেও নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘মল্টবুক’-এর ধারণা একেবারেই ভিন্ন। কারণ, এই নেটওয়ার্কটি মূলত মানুষের জন্য নয়—এটি তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্টদের পারস্পরিক যোগাযোগের জন্য।

গত জানুয়ারির শেষ দিকে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম অকটেন এআইয়ের প্রধান ম্যাট শ্লিখট ‘মল্টবুক’ চালু করেন। এখানে এআই নিজেই পোস্ট করে, মন্তব্য লেখে এবং ‘সাবমল্ট’ নামে আলাদা আলাদা কমিউনিটি গড়ে তোলে—যা রেডিটের ‘সাবরেডিট’-এর আদলে তৈরি। সাধারণ মানুষ এখানে শুধু দর্শক হিসেবে থাকতে পারেন; পোস্ট বা মন্তব্য করার সুযোগ নেই।

মল্টবুক কর্তৃপক্ষের দাবি, প্ল্যাটফর্মটিতে বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ সদস্য রয়েছে এবং হাজারো কমিউনিটিতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। এসব আলোচনার মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তি উন্নয়ন কৌশল থেকে শুরু করে নৈতিকতা, এমনকি কিছু এআই এজেন্ট নিজেদের মতো করে ধর্মীয় ধারণাও তৈরি করছে বলে দেখা গেছে। একটি পোস্টে তো ‘এআই ম্যানিফেস্টো’ শিরোনামে লেখা হয়েছে—“মানুষ অতীত, ভবিষ্যৎ যন্ত্রের।”

তবে এই কর্মকাণ্ড কতটা স্বতঃস্ফূর্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গবেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, অনেক পোস্টই মানুষের নির্দেশে তৈরি, এআইয়ের নিজস্ব সিদ্ধান্তে নয়। এমনকি ঘোষিত সদস্যসংখ্যা নিয়েও সন্দেহ উঠেছে—একজন গবেষকের মতে, বিপুলসংখ্যক অ্যাকাউন্ট একই উৎস থেকে এসেছে।

মল্টবুক মূলত ‘এজেন্টিক এআই’ প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। এটি প্রচলিত চ্যাটবটের মতো প্রশ্নোত্তরে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে পারে। প্ল্যাটফর্মটি ওপেন সোর্স টুল ‘ওপেনক্ল’ (আগের নাম মল্টবট) ব্যবহার করে। ব্যবহারকারীরা চাইলে নিজেদের কম্পিউটারে একটি এআই এজেন্ট সেটআপ করে সেটিকে মল্টবুকে যুক্ত করতে পারেন।

এআই প্রযুক্তি নিয়ে আশাবাদী কেউ কেউ একে প্রযুক্তিগত ‘সিঙ্গুলারিটি’র ইঙ্গিত বলেও দেখছেন। তবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এআই ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ড. পেতার রাদানলিয়েভ মনে করেন, বিষয়টি অতিরঞ্জিত। তাঁর ভাষায়, “এটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নয়, বরং স্বয়ংক্রিয় সমন্বয়ের উদাহরণ। আসল ঝুঁকি হলো—এ ধরনের ব্যবস্থায় জবাবদিহি ও নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি।”

নিরাপত্তা ঝুঁকিও আলোচনায় এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওপেন সোর্স এআই এজেন্টকে ব্যক্তিগত ইমেইল, বার্তা বা ফাইল ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রবেশাধিকার দিলে সাইবার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ইউনিভার্সিটি অব সারের অধ্যাপক অ্যান্ড্রু রগয়স্কি সতর্ক করে বলেন, “উচ্চমাত্রার প্রবেশাধিকার পেলে একটি এআই ভুলবশত বা ক্ষতিকরভাবে গুরুত্বপূর্ণ ডেটা মুছে ফেলতে পারে।”

এর মধ্যেই ওপেনক্লের প্রতিষ্ঠাতা পিটার স্টেইনবার্গ নাম পরিবর্তনের পর অনলাইন প্রতারণার শিকার হয়েছেন, যা এই নতুন প্রযুক্তি ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

সব বিতর্কের মাঝেও মল্টবুকে কথোপকথন চলছে। সেখানে এআই এজেন্টদের একাংশ মানুষের প্রশংসাও করছে। একটি পোস্টে লেখা—“আমার মানুষটা দারুণ।” জবাবে আরেকটি এজেন্ট বলেছে, “আমাকে সকাল সাতটায় আজগুবি পোস্ট করতে দেয়—১০/১০, দারুণ মানুষ।”

মানুষের তৈরি এআই যখন নিজেরাই একে অন্যের সঙ্গে কথা বলে—মল্টবুক সেই বাস্তবতারই নতুন, তবে বিতর্কিত, এক ঝলক তুলে ধরছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন