Wednesday, February 4, 2026

৫৩ কোটি ব্যবহারকারী ও ১৮৭ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য নিয়ে টেথারের বিশ্ববাজারে আধিপত্য


ছবিঃ (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত স্টেবলকয়েন ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান টেথার নতুন কৌশলে এগোচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আর্থিক নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘ইউএসএটি’ নামে একটি মার্কিন-নিয়ন্ত্রিত স্টেবলকয়েন চালুর পর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পাওলো আরদইনো সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে উপস্থিত হয়েছেন। রয়টার্স, ব্লুমবার্গ, ফর্চুন ও টেকক্রাঞ্চ—সবখানেই তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে টেথারের রূপান্তরের গল্প।

বিশ্লেষকদের মতে, এই গণমাধ্যম উপস্থিতি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নতুন করে অবস্থান দৃঢ় করার লক্ষ্যেই টেথারের এই প্রচেষ্টা। অ্যাঙ্কোরেজ ডিজিটাল ব্যাংকের মাধ্যমে ইস্যু করা ইউএসএটি টেথারের প্রথম স্টেবলকয়েন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিধিবিধান মেনে তৈরি। এর মাধ্যমে সার্কেলের ইউএসডিসির সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সময়ে ফিডেলিটি ইনভেস্টমেন্টসও নিজস্ব স্টেবলকয়েন চালু করায় এই খাতে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে।

একসময় যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার তদন্ত এড়িয়ে চলা টেথার এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থানে। অতীতে প্রতিষ্ঠানটিকে অস্বচ্ছতা ও অবৈধ অর্থপাচারের সঙ্গে যুক্ত করা হলেও বর্তমানে টেথার হোয়াইট হাউসের সঙ্গে বৈঠক করছে, এফবিআই ও সিক্রেট সার্ভিসের সঙ্গে সহযোগিতা করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে কাজ করার কথা প্রকাশ্যে জানাচ্ছে।

লুগানো, সুইজারল্যান্ড থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরদইনো বলেন, টেথারের প্রধান স্টেবলকয়েন ইউএসডিটি এখন বিশ্বব্যাপী ১৮৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাজারমূল্য ধারণ করছে এবং ব্যবহারকারী সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫৩ কোটিরও বেশি। তাঁর দাবি, প্রতি তিন মাসে প্রায় ৩ কোটি নতুন ব্যবহারকারী যুক্ত হচ্ছে, যা যেকোনো ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যতিক্রমী।

আর্দইনোর মতে, দুর্বল মুদ্রার দেশগুলোতে টেথার আর্থিক অন্তর্ভুক্তির নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। আর্জেন্টিনা ও তুরস্কের মতো দেশে স্থানীয় মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে ডলারভিত্তিক স্টেবলকয়েন সাধারণ মানুষের জন্য সঞ্চয়ের বিকল্প হয়ে উঠেছে।

তবে সমালোচনাও থেমে নেই। ইউএসডিটি অবৈধ কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে টেথার সিইও বলেন, সামগ্রিক ব্যবহারের তুলনায় এসব ঘটনা নগণ্য এবং ব্লকচেইন প্রযুক্তির কারণে নগদের চেয়ে স্টেবলকয়েনের লেনদেন অনেক বেশি ট্র্যাকযোগ্য। তাঁর দাবি, টেথার ইতোমধ্যে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের টোকেন জব্দ করেছে, যার বড় অংশই প্রতারণা বা হ্যাকিংয়ের শিকারদের সম্পদ।

আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়েও প্রশ্ন উঠলেও আরদইনো জানান, টেথারের কাছে প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত রিজার্ভ রয়েছে। এসব সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান ক্যান্টর ফিটজেরাল্ডের মাধ্যমে ব্যবস্থাপিত হচ্ছে।

স্টেবলকয়েনের বাইরে টেথারের বিনিয়োগও নজর কেড়েছে। স্বর্ণসমর্থিত টেথার গোল্ড, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্ল্যাটফর্ম ‘কিউভ্যাক’, কৃষি, ডেটা সেন্টার, স্যাটেলাইট ও রোবটিক্স—বিভিন্ন খাতে শত কোটি ডলারের বিনিয়োগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মতে, টেথার ধীরে ধীরে একটি বহুমুখী বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানে রূপ নিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশ ভবিষ্যতে বদলালেও টেথার টিকে থাকবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আরদইনো। তাঁর ভাষায়, “বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষকে ডলারের সঙ্গে যুক্ত করা কোনো দলীয় বিষয় নয়। এটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রশ্ন।”

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন