Wednesday, February 4, 2026

ডিপসিক থেকে কুয়েন, চীনা এআই মডেলের দিকে ঝুঁকছে বৈশ্বিক বাজার


প্রতীকী ছবিঃ এআই (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

প্রতি মাসে বিশ্বের কোটি কোটি ব্যবহারকারী নতুন স্টাইল ও আইডিয়া খুঁজতে ভিড় করেন পিন্টারেস্টে। অদ্ভুত ও সৃজনশীল ধারণার জন্য পরিচিত এই প্ল্যাটফর্মের ‘দ্য মোস্ট রিডিকিউলাস থিংস’ শিরোনামের একটি পাতায় দেখা যায় ফুলের টব হিসেবে ব্যবহৃত ক্রোকস, চিজবার্গারের মতো আইশ্যাডো কিংবা সবজি দিয়ে বানানো জিঞ্জারব্রেড হাউস। তবে এসব কনটেন্টের পেছনে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজ করছে, তা যে পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি—এমনটা আর নিশ্চিত নয়।

পিন্টারেস্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা তাদের কনটেন্ট সুপারিশ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে চীনের ওপেন-সোর্স এআই মডেল ব্যবহার করছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী বিল রেডি বলেন, “আমরা পিন্টারেস্টকে কার্যত একটি এআইচালিত শপিং সহকারীতে রূপান্তর করেছি।”

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে চীনের ডিপসিক আর-১ মডেল উন্মুক্তভাবে প্রকাশের পর থেকে চীনা এআই প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। বিল রেডির মতে, এই ‘ডিপসিক মুহূর্ত’ ওপেন-সোর্স এআইয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি এনে দিয়েছে। ডিপসিক ছাড়াও আলিবাবার কুয়েন, মুনশটের কিমি এবং টিকটকের মালিক বাইটড্যান্সের মডেলগুলোও বাজারে প্রতিযোগিতায় রয়েছে।

পিন্টারেস্টের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ম্যাট মাদ্রিগাল জানান, চীনা ওপেন-সোর্স মডেলগুলোর বড় সুবিধা হলো—এগুলো বিনামূল্যে ডাউনলোড করে প্রয়োজন অনুযায়ী কাস্টমাইজ করা যায়। তিনি বলেন, নিজেদের প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে তৈরি মডেলগুলো বাজারে প্রচলিত অনেক বাণিজ্যিক মডেলের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি নির্ভুল এবং খরচও অনেক কম। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই খরচ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসে।

পিন্টারেস্ট একা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের আরও অনেক বড় প্রতিষ্ঠান এখন চীনা এআই প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করছে। এয়ারবিএনবির প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান চেস্কি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তাদের গ্রাহকসেবা এআইয়ের জন্য আলিবাবার কুয়েন মডেল ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, এটি “ভালো, দ্রুত এবং সাশ্রয়ী।”

হাগিং ফেস নামের জনপ্রিয় এআই মডেল শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মেও চীনা মডেলের আধিপত্য বাড়ছে। প্ল্যাটফর্মটির পণ্য ব্যবস্থাপক জেফ বাউডিয়ের জানান, খরচ কম হওয়ায় স্টার্টআপগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মডেলের চেয়ে চীনা মডেল বেশি বেছে নিচ্ছে। অনেক সপ্তাহেই শীর্ষ ডাউনলোড হওয়া মডেলগুলোর বেশির ভাগই চীনা গবেষণাগার থেকে আসছে।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সক্ষমতা ও ব্যবহার—উভয় দিক থেকেই চীনা এআই মডেলগুলো এখন বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমকক্ষ বা কিছু ক্ষেত্রে এগিয়েও আছে। সাবেক ব্রিটিশ উপপ্রধানমন্ত্রী স্যার নিক ক্লেগের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতের ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ নিয়ে অতিমাত্রায় ব্যস্ত, যেখানে চীন ওপেন-সোর্স প্রযুক্তিকে আরও গণমুখী করে তুলছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এআই প্রতিষ্ঠানগুলো এখন রাজস্ব বাড়ানোর চাপে রয়েছে। ওপেনএআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্যিক মডেলের ওপর জোর দিচ্ছে এবং বিজ্ঞাপনসহ নতুন আয়ের পথ খুঁজছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের আরও শক্তিশালী মডেল তৈরিতে তারা বিপুল বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ওপেন-সোর্স এআইয়ে চীনের দ্রুত অগ্রগতি বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার চিত্র বদলে দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ধারাই নির্ধারণ করবে—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দুনিয়ায় নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন