- ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ভাইরাল ব্যক্তিগত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সহকারী ক্লডবট আবারও নাম পরিবর্তন করেছে। একাধিক আইনি ও ব্র্যান্ডিং জটিলতার পর প্রকল্পটির নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘ওপেনক্ল’ (OpenClaw)। এর আগে ক্লড নামের সঙ্গে সাদৃশ্য নিয়ে এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিকের আপত্তির মুখে পড়ে প্রকল্পটি সাময়িকভাবে ‘মোল্টবট’ নামে পরিচিত হয়েছিল।
অস্ট্রিয়ান ডেভেলপার পিটার স্টেইনবার্গার নির্মিত এই ওপেন সোর্স এআই প্রকল্পটির সর্বশেষ নাম পরিবর্তন এবার আইনি বাধ্যবাধকতা ছাড়াই করা হয়েছে। স্টেইনবার্গার জানিয়েছেন, নতুন নাম নির্ধারণের আগে ট্রেডমার্ক যাচাই করা হয়েছে এবং কপিরাইট সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি এড়াতে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছে।
এক ব্লগ পোস্টে তিনি লেখেন, “লবস্টার শেষ পর্যন্ত তার চূড়ান্ত রূপে পৌঁছেছে।” লবস্টারের বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়া ‘মোল্টিং’ থেকেই আগের নামের ধারণা এলেও, ‘মোল্টবট’ নামটি নিজের কাছেও গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন।
মাত্র দুই মাসের মধ্যেই গিটহাবে এক লাখের বেশি স্টার অর্জন করেছে ওপেনক্ল, যা প্রকল্পটির জনপ্রিয়তার বড় প্রমাণ। নির্মাতার ভাষায়, এই নামটি শুধু একটি ব্র্যান্ড নয়, বরং এর সম্প্রদায় ও উৎসের প্রতিফলন। তিনি জানান, প্রকল্পটি এখন আর একক উদ্যোগ নয়—ওপেন সোর্স কমিউনিটির একাধিক সদস্যকে রক্ষণাবেক্ষণকারী হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।
ওপেনক্লকে ঘিরে ইতিমধ্যে বেশ কিছু অভিনব প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ‘মোল্টবুক’, যেখানে এআই সহকারীরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। এই নেটওয়ার্কে এআই গবেষক ও ডেভেলপারদের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। সাবেক টেসলা এআই পরিচালক আন্দ্রেই কারপাথি একে “বিজ্ঞান কল্পনার খুব কাছাকাছি এক অভূতপূর্ব ঘটনা” বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে বড় ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ। ওপেনক্ল এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে এটি ব্যবহারকারীর নিজস্ব কম্পিউটারে চলতে পারে এবং বিদ্যমান চ্যাট অ্যাপের সঙ্গে কাজ করতে পারে। কিন্তু পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া এটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করছেন নির্মাতারা।
স্টেইনবার্গার জানিয়েছেন, নিরাপত্তা এখন প্রকল্পটির প্রধান অগ্রাধিকার। সর্বশেষ সংস্করণে কিছু নিরাপত্তা উন্নয়ন যুক্ত করা হয়েছে। তবুও ‘প্রম্পট ইনজেকশন’–এর মতো শিল্পজুড়ে অমীমাংসিত সমস্যাগুলো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।
এই প্রকল্প বর্তমানে মূলত অভিজ্ঞ প্রযুক্তিপ্রেমী ও পরীক্ষামূলক ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী বলে মত দিয়েছেন রক্ষণাবেক্ষণকারীরা। ওপেনক্লের একজন শীর্ষ মেইনটেইনার ডিসকর্ডে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কমান্ড লাইন না বোঝা ব্যবহারকারীদের জন্য এটি নিরাপদ নয়।
প্রকল্পটিকে এগিয়ে নিতে ওপেনক্ল এখন স্পনসরশিপ গ্রহণ শুরু করেছে। মাসিক পাঁচ ডলার থেকে শুরু করে ৫০০ ডলার পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। তবে নির্মাতা জানিয়েছেন, এই অর্থ তিনি নিজে গ্রহণ করবেন না; বরং ভবিষ্যতে রক্ষণাবেক্ষণকারীদের পারিশ্রমিক নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওপেন সোর্স এআইকে সাধারণ মানুষের নাগালে আনার এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতের প্রযুক্তি ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে মূলধারায় যেতে হলে নিরাপত্তা, অর্থায়ন ও ব্যবহারযোগ্যতা—এই তিন ক্ষেত্রেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে ওপেনক্লকে।