Sunday, April 19, 2026

দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতাদের বৈঠক


ফাইল ছবিঃ শেখ হাসিনা (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

গণ–অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধিদল। লন্ডনভিত্তিক এই দলের পাঁচ নেতা গত ২১ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন বলে জানা গেছে।

সাক্ষাৎকারী নেতারা হলেন—যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি জালাল উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আহাদ চৌধুরী এবং যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল খান। এক সপ্তাহের ভারত সফর শেষে তাঁরা ২৬ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যে ফিরে যান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিনিধিদলের একাধিক সদস্য বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে অন্য কোনো সূত্র থেকে এই সাক্ষাৎ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা যায়নি।

প্রতিনিধিদলের এক নেতা জানান, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। মোবাইল ফোনসহ কোনো ব্যক্তিগত সামগ্রী বহনের অনুমতি ছিল না। শেখ হাসিনার অনুমোদনের পর একাধিক ধাপের নিরাপত্তা যাচাই শেষে তাঁদের নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িতে করে তাঁর বর্তমান বাসভবনে নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে শেখ হাসিনা তাঁদের সঙ্গে সময় কাটান। তাঁর শারীরিক অবস্থাকে সুস্থ ও স্থিতিশীল বলে বর্ণনা করে ওই নেতা বলেন, ‘তিনি আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ় ছিলেন। বড় কোনো অসুস্থতার লক্ষণ দেখা যায়নি, তবে আগের তুলনায় কিছুটা ওজন কমেছে বলে মনে হয়েছে।’

ওই নেতা দাবি করেন, ভারত সরকার দিল্লিতে অত্যন্ত সুরক্ষিত ও মর্যাদাপূর্ণ একটি আবাসনে শেখ হাসিনাকে রেখেছে। সেখানে তাঁর সেবা ও নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োজিত রয়েছে। বাসভবনটি কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবেষ্টনীতে ঘেরা। এ ছাড়া শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা নিয়মিত বিরতিতে লন্ডন থেকে দিল্লিতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সময় কাটান বলেও জানান তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশত্যাগের পর থেকে শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে বিবৃতি ও অডিও বার্তার মাধ্যমে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। ২৩ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগের এক সংবাদ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো তাঁর রেকর্ড করা বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত তাঁকে প্রকাশ্যে বা ভিডিও মাধ্যমে দেখা যায়নি।

এরই মধ্যে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন, আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরলেও শেখ হাসিনা সরাসরি নেতৃত্বে নাও থাকতে পারেন। তিনি জানান, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে অবসর নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সাল থেকে টানা ১৫ বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মতপ্রকাশ দমনের অভিযোগ উঠে। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয় বলে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। পাশাপাশি হত্যা, গুম ও দুর্নীতিসহ একাধিক মামলার বিচার চলমান রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে ভারত সরকারের কাছে একাধিকবার হস্তান্তরের অনুরোধ জানালেও এ বিষয়ে দিল্লির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হয়নি।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন