- ০৪ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রলোভনে ঘর ছেড়ে যাওয়া গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার দুই কিশোরীকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। দুই জেলার প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি মানবিক পোস্টের সূত্র ধরে মাত্র দুই দিনের মধ্যেই পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন ঘটে তাদের।
জানা গেছে, শ্রীপুর উপজেলার পূর্ব নিজ মাওনা গ্রামের বাসিন্দা সোহেল রানার দুই মেয়ে সানজিদা (১৪) ও আতিয়া (১৩) গত শনিবার সকালে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের কাছে খোঁজাখুঁজি করলেও তাদের কোনো সন্ধান পাননি।
পরবর্তীতে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত এক ব্যক্তির নানা প্রলোভনমূলক কথায় আকৃষ্ট হয়ে এবং সামান্য অভিমানে দুই বোন বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যায়। তবে অচেনা পরিবেশে গিয়ে তারা দ্রুতই বিপাকে পড়ে এবং পথ হারিয়ে জামালপুরে পৌঁছে যায়।
সেখানে তাদের অসহায় অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দুই কিশোরীর ছবি ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে একটি পোস্ট করেন এবং তাদের পরিবারের সন্ধান চেয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জামালপুর জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুফ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার নির্দেশনায় শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিক অনুসন্ধান শুরু করে। পরে স্থানীয় পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে দুই কিশোরীর পরিবারের পরিচয় নিশ্চিত করা হয় এবং তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়।
নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর মঙ্গলবার জামালপুরের একটি সুরক্ষিত আশ্রয়কেন্দ্র থেকে দুই বোনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সন্তানদের ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তাদের মা-বাবা।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, সময়মতো উদ্ধার হওয়ায় দুই কিশোরী কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার হয়নি। তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রমের বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে শুধু উদ্ধারেই দায়িত্ব শেষ না করে দুই কিশোরীর শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সহায়তার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে উপজেলা প্রশাসনকে। পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে যাতে তাদের পড়াশোনা ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ঘটনা যেমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে, তেমনি এর ইতিবাচক ব্যবহারও তুলে ধরেছে। একজন সচেতন নাগরিকের একটি পোস্ট এবং প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে একটি পরিবার তাদের সন্তানদের ফিরে পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু-কিশোরদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতা জরুরি। একই সঙ্গে অপরিচিত ব্যক্তির প্রলোভন ও অনলাইন প্রতারণা সম্পর্কে তাদের নিয়মিত সচেতন করা প্রয়োজন।
এই ঘটনা অভিভাবকদের জন্য যেমন সতর্কবার্তা, তেমনি সামাজিক দায়িত্ববোধ ও প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের একটি অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।