- ২১ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। টাঙ্গাইল
যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া-নলিন এলাকায় তারাকান্দি-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়কের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নতুন করে সড়কে ফাটল দেখা দেওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ রাখা হয়েছে সব ধরনের যান চলাচল। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা ভাঙনের মধ্যে সোমবার (২০ জুলাই) রাতেও নলিন বাজারসংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৬০ ফুট সড়ক নদীতে তলিয়ে যায়। এরপর সড়কের আরও কয়েকটি অংশে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, যমুনার পানি বৃদ্ধি এবং প্রবল স্রোতের চাপে শাখারিয়া স্লুইসগেটসংলগ্ন সড়ক ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ছড়িয়ে পড়েছে। নদীর কিনারায় থাকা অনেক বাড়িঘরের বাসিন্দা সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে শুধু আঞ্চলিক মহাসড়কই নয়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে গোপালপুরসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি লাখো মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত শামসুল আলম বলেন, শাখারিয়া ও নলিন এলাকায় দ্রুত কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে ভাঙনের বিস্তার আরও বাড়বে। এতে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে শাখারিয়া স্লুইসগেটসংলগ্ন প্রায় ১০০ ফুট এলাকায় জিওব্যাগ ডাম্পিং করতে দেখা যায়।
গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঞ্জুরুল মোর্শেদ জানান, যমুনার পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং তীব্র স্রোতের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইন উদ্দিন বলেন, নদীর চাপ কমাতে এবং ভাঙন নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। একই সঙ্গে নদীর গতিপ্রকৃতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হচ্ছে।
ভাঙনের ঝুঁকির কারণে দ্বিতীয় দিন থেকেই তারাকান্দি-ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। হেমনগর পুলিশ ফাঁড়ি জানিয়েছে, যানবাহনকে বিকল্প হিসেবে নলিন বাজার হয়ে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর নদীশাসনের অভাব এবং অপরিকল্পিত নদী খননের কারণে যমুনার ভাঙন দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে। তারা স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।