Thursday, June 4, 2026

নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যেও ১৩০ দেশের অংশগ্রহনে সেন্ট পিটার্সবার্গ অর্থনৈতিক ফোরাম শুরু


ছবিঃ ২০২৩ সালের ১৬ই জুন, রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের (এসপিআইইএফ) একটি অধিবেশনে বক্তব্য রাখছেন রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন। (সংগৃহীত । আল জাজিরা / রামিল সিটডিকভ/হোস্ট ফটো এজেন্সি আরআইএ নভোস্তি, রয়টার্সের সৌজন্যে]

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN  

রাশিয়ার অর্থনৈতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত সেন্ট পিটার্সবার্গে শুরু হয়েছে তিন দিনের সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরাম (SPIEF), যা অনেকেই অনানুষ্ঠানিকভাবে “রাশিয়ান ডাভোস” নামে অভিহিত করে থাকেন। এবারের আয়োজনে বিশ্বের ১৩০টিরও বেশি দেশ থেকে প্রায় ২০ হাজার অতিথি অংশ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।

বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই ফোরাম অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে। সম্মেলন শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে শহরটির আশপাশে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছে রাশিয়া ও ইউক্রেন—যার ফলে সাময়িকভাবে বিমানবন্দর কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। তবে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সম্মেলন চলমান রয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতির পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অন্যতম প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ধরা হয় SPIEF-কে। ১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরু করা এই আয়োজন শুরুতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং পোস্ট-সোভিয়েত রাশিয়াকে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পুনরায় যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে এটি এখন কেবল অর্থনৈতিক সম্মেলন নয়, বরং রাশিয়ার পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক কৌশল তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজার থেকে রাশিয়ার বিচ্ছিন্নতা বাড়লেও, এই ফোরামের মাধ্যমে মস্কো গ্লোবাল সাউথভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করছে।

এবারের আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদলও অংশ নিচ্ছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার বড় কোনো অর্থনৈতিক সম্মেলনে প্রথমবারের মতো মার্কিন উপস্থিতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, উপ-রাষ্ট্রপ্রধান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি ছাড়াও চীন, সৌদি আরব, তানজানিয়া ও উজবেকিস্তানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে।

ফোরামের অতিথি দেশ হিসেবে এবার রয়েছে সৌদি আরব। জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে এবারের কর্মসূচিতে।

রুশ কর্তৃপক্ষ বলছে, SPIEF কেবল ব্যবসা ও বিনিয়োগের মঞ্চ নয়; বরং এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে রাশিয়া নিজেদের বৈশ্বিক অবস্থান তুলে ধরে এবং পশ্চিমা প্রভাবের বাইরে নতুন অর্থনৈতিক জোট গড়ে তোলার চেষ্টা করে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সাধারণত এই সম্মেলনের মূল অধিবেশনে অংশ নেন এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

বিশ্লেষকদের ধারণা, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও বৈশ্বিক বিভাজনের মধ্যেও এই সম্মেলনের মাধ্যমে রাশিয়া বিশ্ব অর্থনীতিতে নিজেদের সক্রিয় উপস্থিতি এবং বিকল্প অংশীদারিত্বের বার্তা দিতে চায়।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন