Thursday, June 4, 2026

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব পাস


ছবিঃ ৩ জুন একটি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন (সংগৃহীত । আল জাজিরা / নাথান হাওয়ার্ড/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ভোটে ২১৫–২০৮ ব্যবধানে প্রস্তাবটি পাস হয়, যেখানে চারজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে অবস্থান নেন।

যদিও প্রস্তাবটি এখনই আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবুও এটি ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্তে সামরিক অভিযান পরিচালনা নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে।

এই প্রস্তাবের মাধ্যমে কংগ্রেস ট্রাম্পকে ইরানে কোনো সামরিক অভিযান চালানোর আগে আইনপ্রণেতাদের অনুমোদন নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে কারণ ট্রাম্প প্রশাসন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয়ে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত ১০০ দিনের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

ভোটের সময় রিপাবলিকান দলে বিভাজন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মিশিগান, ওহাইও, পেনসিলভানিয়া ও কেন্টাকির চার রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা দলীয় অবস্থান থেকে সরে এসে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। তাদের মতে, প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ পরিচালনার এখতিয়ার সীমিত এবং কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান গ্রহণযোগ্য নয়।

ডেমোক্র্যাটরা প্রস্তাবটিকে সমর্থন জানিয়ে সিনেটকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, যুদ্ধের ফলে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ঘটছে।

এদিকে যুদ্ধ ব্যয়ের বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের পেছনে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, প্রকৃত ব্যয় আরও অনেক বেশি হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে তা এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

যুদ্ধের কারণে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুদ কমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে জনমতও ধীরে ধীরে যুদ্ধের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ নাগরিক এই সংঘাতকে ‘উপকারের চেয়ে ক্ষতিকর’ হিসেবে বিবেচনা করছেন।

প্রস্তাবটি এখন সিনেটে উঠবে, যেখানে এর আগে একই ধরনের একটি বিল পাস হয়েছিল। তবে আইনটি বাস্তবে কার্যকর হতে হলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্জন করা কঠিন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।


Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন