Thursday, June 4, 2026

ডলারের বিপরীতে ইতিহাসের সর্বনিম্নে ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়া


ছবিঃ একজন টেলার 20 জানুয়ারী, 2026-এ ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় একজন মানি চেঞ্জারের কাছে রুপিয়া ব্যাংক নোট গণনা করছেন (সংগৃহীত । আল জাজিরা / আজেং দিনার উলফিয়ানা/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রা রুপিয়া মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার এক পর্যায়ে এক ডলারের বিপরীতে রুপিয়ার দর দাঁড়ায় ১৮ হাজার ২৮-এ, যা এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন বলে জানিয়েছে বাজার বিশ্লেষকেরা।

১৮ হাজারের সীমা অতিক্রম করাকে সাধারণত “সাইকোলজিক্যাল থ্রেশহোল্ড” হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই সীমা ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যদিও দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার স্থিতিশীল রাখতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশই মুদ্রা চাপের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর অর্থনীতি যেমন ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ জোসুয়া পারদেদে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি ও বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কমে যাওয়ায় ডলারের চাহিদা বেড়েছে, যার ফলে রুপিয়ার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তার মতে, বৈদেশিক বাণিজ্য থেকে ডলারের প্রবাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি আমদানি, ঋণ পরিশোধ ও লভ্যাংশ স্থানান্তরের জন্য ডলারের চাহিদা এখনো উচ্চমাত্রায় রয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাজারে ডলারের সংকট পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আমদানি শুল্ক নীতিও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত মাসে নীতিগত সুদের হার বাড়িয়ে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ করেছে, যা দুই বছরের মধ্যে প্রথম বৃদ্ধি। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও বাজারে ডলারের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তবে ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু সুদের হার বৃদ্ধি বা হস্তক্ষেপ যথেষ্ট নয়। বাজারে কাঠামোগত চাপ অব্যাহত থাকায় মুদ্রার ওপর চাপ দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানি নির্ভর আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং বিনিয়োগ প্রত্যাহারের চাপ একসঙ্গে কাজ করায় রুপিয়ার দুর্বলতা আরও বাড়ছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন