Monday, July 20, 2026

দুই মার্কিন সেনা নিহতের জেরে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলা


ছবিঃ কুয়েতের আহমাদি গভর্নরেটের একটি তেল স্থাপনার কাছে ধোঁয়া উড়তে দেখা যাচ্ছে—এমন একটি উপগ্রহ চিত্র। (সংগৃহীত । আল জাজিরা /হ্যান্ডআউট/ইউরোপীয় ইউনিয়ন/কোপারনিকাস সেন্টিনেল-২/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

ইরানের ওপর নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বিরুদ্ধে ‘দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এর আগে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং একজন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।

রোববার (১৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি কমানোর লক্ষ্যেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির হরমোজগান প্রদেশের সিরিক এলাকা এবং কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলা হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার ভোরে কয়েক দফায় এসব হামলা চালানো হয়। এছাড়া খুজেস্তান প্রদেশের শাদেগান এলাকার কাছেও হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম।

তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনার বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।

সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, সামুদ্রিক সামরিক সক্ষমতা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার।

মার্কিন সামরিক বাহিনী বলছে, শুক্রবার জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন। ওই হামলার প্রতিক্রিয়াতেই নতুন অভিযান চালানো হয়েছে।

সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৬ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৪৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে ইরানও পাল্টা হামলার দাবি করেছে। দেশটির তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী। তাদের দাবি, আল-আদিরি ক্যাম্পের একটি অস্ত্রাগার এবং আলী আল সালেম ঘাঁটির প্যাট্রিয়ট রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

শুরুতে দুই দেশের সংঘাত মূলত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে থাকলেও এখন তা আরও বিস্তৃত হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় সেতু ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার মতো বেসামরিক অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ইরানের দাবি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, বোনজি এলাকার একটি পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে, যার ফলে প্রায় ১০ হাজার মানুষের পানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপের একটি পানি শোধনাগারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তী চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করছে এবং তা আর বাস্তবায়ন করছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত থাকলে ‘ভুলে যাওয়ার মতো নয় এমন শিক্ষা’ দেওয়া হবে বলে এর আগে সতর্ক করেছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।

ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, গত তিন সপ্তাহে মার্কিন হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

এদিকে টানা আট রাত ধরে মার্কিন হামলার কারণে ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র। তেহরান থেকে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, মানুষ এখন সংঘাত কতদিন চলবে এবং কূটনৈতিক সমাধানের কোনো পথ খোলা আছে কি না—তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় ধরনের সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে।



Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন