Monday, July 20, 2026

গাজায় ফের বসতি স্থাপনের ঘোষণা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর


ছবিঃ বসতি স্থাপন থেকে পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত করা গাজায় রূপ নিচ্ছে ইসরায়েলি কৌশল (সংগৃহীত । আল জাজিরা)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে নতুন করে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের পরিকল্পনার কথা আবারও প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন, ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ এবং গাজার পুনর্গঠন নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে।

এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে কাটজ জানান, উত্তর গাজার কয়েকটি এলাকায় ‘নাহাল আউটপোস্ট’ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সামরিক উপস্থিতির পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে এসব স্থাপনা গড়ে তোলা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখবে। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উপযুক্ত সময় ও প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে বলে জানান তিনি।

এটি প্রথমবার নয়, এর আগেও একাধিকবার গাজায় ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি এবং নতুন বসতি স্থাপনের পক্ষে মত দিয়েছিলেন কাটজ। একই ধরনের অবস্থান নিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচও। তিনি সম্প্রতি দাবি করেন, উত্তর গাজায় নতুন বসতি স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় নতুন বসতি গড়ে তোলার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের কট্টরপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। গত বছর দেশটির কয়েকজন মন্ত্রী ও বসতি আন্দোলনের নেতাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনেও গাজায় পুনরায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নতুন ইসরায়েলি বসতি স্থাপন অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবুও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং নতুন এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগে আন্তর্জাতিক মহলে একাধিকবার সমালোচনার মুখে পড়েছে ইসরায়েল।

ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, গাজায় দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযান, অবকাঠামো ধ্বংস এবং মানবিক সংকটের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, চলমান পরিস্থিতি ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি ছাড়তে বাধ্য করার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ইসরায়েল অবশ্য এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলছে, হামাসের সামরিক সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

এদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, গাজায় মানবিক সংকট এখনো কাটেনি। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা ও জরুরি সহায়তার ঘাটতি অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাও জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির সময়েও গাজায় বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি এবং শিশুদের প্রাণহানিসহ মানবিক পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গাজা ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কট্টর ডানপন্থী ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখতে সরকার সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতা বসতি সম্প্রসারণের মতো বিষয়গুলো আরও জোরালোভাবে সামনে আনছেন।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ মনে করছে, গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হলে সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান, মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এমন বাস্তবতায় উত্তর গাজায় নতুন বসতি স্থাপনের প্রস্তাব অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন