- ১৯ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারও বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এক রাতে সর্বোচ্চ সংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে সর্বশেষ এই হামলায়। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। হামলার ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আগুন, ভবন ধস এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানান, রোববার ভোররাতের এ হামলায় কিয়েভের অন্তত ছয়টি জেলা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। আবাসিক ভবন, অফিস, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী নিবাস এবং বহু যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের পর বিভিন্ন স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়লে দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত অভিযান শুরু করে।
স্ভিয়াতোশিনস্কি জেলায় একটি জ্বলন্ত বাড়ি থেকে চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে শেভচেঙ্কিভস্কি জেলায় আগুনে পুড়ে যাওয়া তিনতলা একটি ভবন থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সোলোমিয়ানস্কি, দেসনিয়ানস্কি ও দনিপ্রো জেলাতেও আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালায় উদ্ধারকারী দল।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এই হামলাকে রাজধানীর ওপর পরিচালিত "নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বেসামরিক মানুষের ওপর এমন হামলার জবাব দিতে হবে দৃঢ় অবস্থানের মাধ্যমে।
রাজধানীর বাইরে দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলেও রাশিয়ার ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। এদিকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জাপোরিঝিয়ায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে ড্রোন হামলার ঘটনায় ট্রেনের চালক নিহত হন। হামলার পর ট্রেনের একাধিক বগিতে আগুন ধরে যায়।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর দাবি, রাশিয়া রাতে মোট ৪১টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার মধ্যে ১৮টি প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তবে বাকি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হানায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে কিয়েভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। একই সময়ে ইউক্রেনের অন্যতম কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাকে আরও কঠিন অবস্থায় ফেলেছে।
এদিকে ইউক্রেনও পাল্টা অভিযান চালিয়ে কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর ভাষ্য, ক্রিমিয়ায় রুশ বাহিনীর জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করতেই এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইউক্রেনকে দেশীয়ভাবে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সময়সূচি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার করাই এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিদিনই আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে দেশের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
যুদ্ধের পঞ্চম বছরে এসে রাশিয়ার লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর বাড়তে থাকা চাপ নতুন করে সংঘাতের গভীরতা ও দীর্ঘস্থায়িত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে।