Thursday, June 4, 2026

গাজায় সামরিক অবস্থান আরও বিস্তৃত করছে ইসরায়েল


ছবিঃ ২৬ মে, ২০২৬ তারিখে মধ্য গাজা উপত্যকায় ‘হলুদ রেখা’র দিকে নজর রাখা একটি সামরিক অবস্থান দখল করে আছে ইসরায়েলি সৈন্যরা। (সংগৃহীত । আল জাজিরা / এরিয়েল শ্যালিট/এপি ফটো)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

অক্টোবর ২০২৫ সালে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি অনুযায়ী গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের কথা থাকলেও বাস্তবে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। আল জাজিরার ওপেন সোর্স ইউনিটের স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গাজা উপত্যকার ভেতরে ইসরায়েলি বাহিনী নতুন করে শক্তিশালী ও স্থায়ী সামরিক স্থাপনা গড়ে তুলছে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত পাওয়া স্যাটেলাইট তথ্যে গাজায় অন্তত ৪০টি পৃথক ইসরায়েলি সামরিক আউটপোস্ট শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত আটটি ঘাঁটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সম্পূর্ণ নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একটি ঘাঁটিতে এখনও নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।

এই সামরিক স্থাপনাগুলো গাজার উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে। বিশেষ করে খান ইউনিস ও নেটজারিম করিডরের আশপাশে নতুন ঘাঁটি নির্মাণের প্রবণতা বেশি দেখা গেছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চলের একটি কবরস্থানের ধ্বংসস্তূপের ওপর সরাসরি নতুন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে সেখানে ভারী নির্মাণযন্ত্রের মাধ্যমে কাজ শুরু হয় এবং ২০২৬ সালের মে নাগাদ সেটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক কাঠামোয় রূপ নেয়, যেখানে যানবাহন পার্কিং ও সেনাদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

উত্তর গাজার বেইত লাহিয়াতেও একই ধরনের দ্রুত সামরিকীকরণের চিত্র দেখা গেছে। অক্টোবর ২০২৫ সালে এলাকা প্রায় খালি থাকলেও পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেখানে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে ওঠে।

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, বিদ্যমান ঘাঁটিগুলোও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলে একটি ঘাঁটির আয়তন প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু স্থানে গভীর পরিখা খনন ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।

নেটজারিম করিডরের আশপাশে একাধিক সামরিক পোস্ট স্থাপন করে গাজার উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে চলাচল নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক সাম্প্রতিক বক্তব্যে গাজার বড় অংশের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার নির্দেশনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা সামরিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে গাজার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন এই সামরিক কাঠামো যুদ্ধবিরতির অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের মতে, এসব স্থাপনা দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ ও কৌশলগত আধিপত্য বজায় রাখার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হচ্ছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতির পরও সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি বলে দাবি করা হচ্ছে।

স্যাটেলাইট বিশ্লেষণভিত্তিক এই প্রতিবেদন নতুন করে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, যেখানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও সামরিক উপস্থিতি ক্রমশ স্থায়ী রূপ নিচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন