Tuesday, July 21, 2026

ফেরান তোরেসের গোলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন, অশ্রুসিক্ত বিদায় মেসির


ছবিঃ অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াই শেষে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো লা রোজা (সংগৃহীত)

স্পোর্টস ডেস্ক । PNN

চার বছর আগে কাতারে লিওনেল মেসির হাতে উঠেছিল বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি। সেই মুহূর্তকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা সমাপ্তি বলেই মনে করেছিলেন অনেকে। কিন্তু ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের ফাইনাল যেন লিখল ভিন্ন এক গল্প। সেখানে শেষ হাসি হাসল স্পেন। অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াই শেষে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো লা রোজা।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই নিজেদের পরিকল্পনার ছাপ রাখে স্পেন। বলের দখল, ছোট ছোট পাস আর দ্রুত আক্রমণে একের পর এক চাপ সৃষ্টি করতে থাকে তারা। লামিনে ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস ও পেদ্রিদের গতিময় ফুটবলে বেশ কয়েকবার বিপদে পড়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণ।

তবে ম্যাচের প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনাকে ভরসা জুগিয়েছেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। একাধিক দুর্দান্ত সেভ করে তিনি দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। অন্যদিকে লিওনেল মেসিকে ঘিরে রাখে স্পেনের রক্ষণভাগ। মাঝেমধ্যে বল পেলেও নিজের স্বাভাবিক ছন্দে দেখা যায়নি আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। হুলিয়ান আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজ ও জুলিয়ানো সিমিওনের সমন্বয়ে কয়েকটি আক্রমণ গড়ে উঠলেও শেষ পর্যন্ত স্পেনের রক্ষণ ভাঙা সম্ভব হয়নি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলশূন্য সমতায় শেষ হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ে গিয়েই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আর্জেন্টিনা একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে খেলতে বাধ্য হলে সেই সুযোগ লুফে নেয় স্পেন। ১০৬তম মিনিটে দ্রুতগতির এক আক্রমণ থেকে ফেরান তোরেস বল জড়িয়ে দেন জালে। গ্যালারিতে তখন স্প্যানিশ সমর্থকদের উল্লাস, আর আর্জেন্টাইন শিবিরে নেমে আসে নিস্তব্ধতা।

গোল হজমের পর সর্বশক্তি দিয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। মেসিও কয়েকবার আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ আর গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত আর গোলের দেখা মেলেনি। শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে মেতে ওঠেন স্পেনের ফুটবলাররা। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের ট্রফি উঠে তাদের হাতেই।

এই বিশ্বকাপজুড়ে স্পেন ছিল সবচেয়ে ধারাবাহিক দলগুলোর একটি। আক্রমণ, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণ—তিন বিভাগেই ছিল ভারসাম্য। তরুণদের ওপর আস্থা রেখে লুইস দে লা ফুয়েন্তে যে দলটি গড়েছিলেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত বিশ্বসেরার মুকুট জিতে নিল।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার জন্য এই পরাজয় কেবল একটি ফাইনাল হার নয়, হয়তো একটি যুগেরও সমাপ্তি। ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসির এটি বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ হতে পারে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হলেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা আবারও প্রমাণ করেছে, তারা এখনও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি।

তবে ফুটবল শেষ পর্যন্ত ফলাফলের খেলাই। আর সেই ফল বলছে—২০২৬ সালের বিশ্বকাপের সেরা দল স্পেন। নতুন প্রজন্মের হাত ধরে আবারও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসনে বসেছে ইউরোপের এই শক্তিশালী দল। অন্যদিকে মেসির শেষ বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হলো অশ্রুসিক্ত এক ফাইনালে। হয়তো ট্রফি জিততে পারেননি, কিন্তু ফুটবল ইতিহাসে তার নাম চিরকালই লেখা থাকবে সোনালি অক্ষরে। আর বিশ্বকাপের নতুন অধ্যায় শুরু হলো স্পেনের হাত ধরেই।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন