Thursday, June 4, 2026

যুক্তরাষ্ট্রে ফুল-ফান্ডেড পিএইচডি স্কলারশিপ পেলেন জবির শিক্ষার্থী তিলোত্তমা রায়


ছবিঃ জবি শিক্ষার্থী তিলোত্তমা রায় (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

যুক্তরাষ্ট্রে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী তিলোত্তমা রায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ওয়েন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষার জন্য এই স্কলারশিপ অর্জন করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, একাডেমিক ফলাফল এবং গবেষণার প্রতি গভীর আগ্রহের মাধ্যমে তিনি এই সাফল্য অর্জন করেন। তার এই অর্জনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী মহলে আনন্দ ও গর্বের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

তিলোত্তমা রায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। স্নাতকে তিনি ৩.৯৪ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৮৩ সিজিপিএ অর্জন করেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা আইইএলটিএসে ৬.৫ স্কোর অর্জন করেন।

তবে তার এই সাফল্যের পথ সহজ ছিল না। পড়াশোনার পাশাপাশি তাকে চাকরি ও গবেষণার দায়িত্বও একসঙ্গে সামলাতে হয়েছে। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে তিনি একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে মাইক্রোবায়োলজিস্ট হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (বিসিএসআইআর) থিসিস গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির পাশাপাশি বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যান।

২০২৪ সালে প্রথম দফায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করে আংশিক অর্থায়নের সুযোগ পেলেও তা গ্রহণ না করে আরও উন্নত প্রস্তুতির মাধ্যমে পুনরায় আবেদন করেন তিনি। এরপর ওয়েন স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পূর্ণ অর্থায়নের পিএইচডি অফার পান।

তিলোত্তমা রায় বলেন, তার এই সাফল্যের পেছনে একাডেমিক ফলাফল, গবেষণা অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা এবং শক্তিশালী স্টেটমেন্ট অব পারপাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একইসঙ্গে চাকরি, ক্লাস, পরীক্ষা ও গবেষণা একসঙ্গে সামলানোর অভিজ্ঞতা তাকে আরও প্রস্তুত করেছে।

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে তার একটি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। আরও একটি গবেষণা প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে এবং নতুন একটি গবেষণা চলমান। বর্তমানে নিউমোনিয়ার সম্ভাব্য ওরাল ভ্যাকসিন নিয়ে তার গবেষণা ওয়েন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের আগ্রহ তৈরি করেছে।

নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিলোত্তমা রায় বলেন, “এটা আমার জন্য এক ধরনের ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ ছিল। অনেকেই বলেছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাওয়া কঠিন। আমি সেই চ্যালেঞ্জকেই অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে গবেষণার মাধ্যমে নতুন কিছু উদ্ভাবন করে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তিলোত্তমা রায়ের এই অর্জন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে থাকবে। সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও অধ্যবসায় ও পরিকল্পনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন সম্ভব—এটাই তার অর্জন থেকে প্রমাণিত হয়েছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন