- ০৪ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
এনটিআরসিএর ৬ষ্ঠ ও ৭ম গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া প্রায় ১ হাজার ২০০ কারিগরি শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্তি না হওয়ায় বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। মাসের পর মাস কাজ করেও নিয়মিত বেতন না পাওয়ায় চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছেন তারা।
টাঙ্গাইলের একটি কারিগরি স্কুলের শিক্ষক সিফাত খান (ছদ্মনাম) ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি নিয়োগ পেলেও গত পাঁচ মাস ধরে কোনো বেতন পাননি। তার মতো দেশের বিভিন্ন জেলার প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষক ৫ থেকে ১০ মাস পর্যন্ত বেতন-ভাতা ছাড়াই দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষকদের অভিযোগ, নিয়োগ ও যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) অনুমোদন না হওয়ায় তারা বেতন পাচ্ছেন না। এতে পরিবার চালানো, বাসাভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা ও চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সূত্র অনুযায়ী, এনটিআরসিএ ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষকের সুপারিশ দেয়। এর মধ্যে ১৬ হাজার শিক্ষক একই বছরের আগস্টে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি প্রকাশিত ৭ম গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আরও এক হাজারের বেশি শিক্ষক কারিগরি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পান।
শিক্ষকদের দাবি, মাউশি ও মাদ্রাসা অধিদপ্তরের শিক্ষকরা অনলাইনে এমপিওভুক্ত হয়ে নিয়মিত বেতন পেলেও কারিগরি শিক্ষকদের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, একই নিয়মে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েও তারা ৫ থেকে ১০ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। এতে তারা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন এবং পারিবারিক জীবন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, ইনডেক্স নম্বর ও এমপিও প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তারা দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। নিয়োগের পরও নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে গেলেও ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ৭ম গণবিজ্ঞপ্তির শিক্ষকদের বিষয়ে ইতোমধ্যে দুটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন অর্থবছর থেকে তাদের এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির বকেয়া শিক্ষকদের বিষয়টিও সমাধানের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, এমপিও সংক্রান্ত কার্যক্রম মূলত অধিদপ্তরের দায়িত্বে। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা দ্রুত এমপিওভুক্তি ও বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন বিনা বেতনে চাকরি করতে গিয়ে শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা ও পারিবারিক স্থিতিশীলতা—উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।