- ১৭ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলের ক্যান্টিনে খাবারের মান নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এবার জসীমউদ্দীন হলের ক্যান্টিনের খাবারে ব্লেডের অংশ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি সামনে আসার পরপরই হল প্রশাসন ক্যান্টিন মালিককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছে এবং পুরো বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে হলের এক শিক্ষার্থী রাতের খাবার খাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম কেডি, যিনি ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি জানান, নতুন ক্যান্টিন মালিকের খাবারের মান কেমন, তা দেখার উদ্দেশ্যে সেদিন হলের ক্যান্টিনেই রাতের খাবার খান। তিনি হাঁসের মাংস ও সবজি অর্ডার করেছিলেন। সবজি খাওয়ার পর মাংস খেতে গিয়ে খাবারের মধ্যে অর্ধেক ব্লেড দেখতে পান।
তিনি বলেন, বিষয়টি বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের সিনিয়র শিক্ষার্থীদের ডাকেন এবং ক্যান্টিন ম্যানেজারকে বিষয়টি দেখান। পরে ম্যানেজার বাবুর্চিকে ডেকে তিরস্কার করেন এবং তার খাবার পরিবর্তন করে দেন।
শরিফুলের ভাষ্য, খাবারে পোকামাকড় বা অন্যান্য অস্বাভাবিক জিনিস পাওয়া গেলেও ব্লেডের মতো ধারালো বস্তু পাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি ঘটনার ছবি তুলে হলের শিক্ষার্থীদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে শেয়ার করলে বিষয়টি দ্রুত হল প্রশাসনের নজরে আসে।
ঘটনার বিষয়ে জসীমউদ্দীন হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. উসমান গণি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই হল প্রশাসন ক্যান্টিন মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছে। তবে তারা খাবারে ব্লেড থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ক্যান্টিন পরিচালনা করলেও এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।
তিনি বলেন, সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর ক্যান্টিনের মালিক পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং খাবারের মানও আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। এমন অবস্থায় হঠাৎ এই ঘটনা কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে ক্যান্টিন মালিককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্যান্টিনের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হবে। কে খাবারটি পরিবেশন করেছেন, কীভাবে তা শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছেছে এবং পুরো ঘটনার পেছনে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, এর আগেও চলতি মাসের ৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ক্যান্টিনের খাবারে ব্লেড পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় এক আবাসিক শিক্ষার্থী তরকারির মধ্যে ধারালো ব্লেড দেখতে পান বলে দাবি করেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
পরপর দুটি আবাসিক হলে একই ধরনের অভিযোগ ওঠায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্যান্টিনের খাবারের নিরাপত্তা ও মান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কঠোর তদারকির দাবি জানিয়েছেন।