- ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বিশ্ব ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের অধিকার ও মালিকানা প্রশ্নে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং বিশ্ব ক্রিকেটারদের সংগঠন ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ)। আসন্ন বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা ও শর্তাবলি ঘিরেই এই বিরোধের সূচনা হয়েছে।
ডব্লিউসিএ অভিযোগ করেছে, বিশ্বকাপের জন্য খেলোয়াড়দের কাছে যে নতুন শর্তাবলি পাঠানো হয়েছে, তা ২০২৪ সালে আইসিসির সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংগঠনটির মতে, নতুন নীতিমালা আগের চুক্তির তুলনায় অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণমূলক এবং খেলোয়াড়দের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে।
এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে চিঠি পাঠায় ডব্লিউসিএ। জবাবে আইসিসি জানায়, ২০২৪ সালের চুক্তিটি কেবল আটটি জাতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। এই বোর্ডগুলো হলো—অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও স্কটল্যান্ড। বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ড বিশ্বকাপে সুযোগ পায়, কারণ বাংলাদেশ ভারত সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে।
বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বাকি ১২টি দেশের মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রিকেট বোর্ড ডব্লিউসিএকে স্বীকৃতি দেয় না। ফলে এসব দেশের খেলোয়াড়রাও এই সংগঠনের আওতায় নেই। অন্যদিকে ইতালি, জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান, নামিবিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার নিজস্ব খেলোয়াড় সংগঠন থাকলেও, চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তারা নতুন নীতিমালার কোনো কপি পায়নি বলে জানানো হয়েছে।
ডব্লিউসিএর পালটা বক্তব্য হলো, ২০২৪ সালের চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল—এই চুক্তি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত সব খেলোয়াড়ের জন্য কার্যকর হবে, তারা বিশ্বকাপে খেলুক বা না খেলুক। এমনকি কোনো দেশের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না থাকলেও খেলোয়াড়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে দাবি সংগঠনটির।
ডব্লিউসিএর প্রধান নির্বাহী টম মোফাট খেলোয়াড়দের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় জানান, পুরোনো ও নতুন চুক্তির মধ্যে অন্তত আটটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বড় পার্থক্য রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—মিডিয়া ও কনটেন্ট ব্যবহারের অধিকার, পর্দার আড়ালের ভিডিও ধারণ, ড্রেসিংরুমে প্রবেশাধিকার, খেলোয়াড়দের জৈবিক তথ্য সংগ্রহ, লাইসেন্সিং, নাম–ছবি–পরিচয় (এনআইএল) ব্যবহারের অধিকার, খেলোয়াড় চুক্তি এবং বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া।
সংগঠনটির অভিযোগ, আগের চুক্তিতে খেলোয়াড়দের সম্মতি ও আলোচনার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছিল এবং সে দায়িত্ব ডব্লিউসিএর মাধ্যমে পরিচালিত হতো। তবে নতুন নীতিমালায় খেলোয়াড়দের আলাদা সম্মতির প্রয়োজন নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে; বরং সংশ্লিষ্ট বোর্ডই সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পাবে।
এই বিরোধ বিশ্ব ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের অধিকার ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।