Sunday, April 19, 2026

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিল পিসিবি


ছবিঃ পাকিস্তান টিম (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর বহুল আলোচিত ম্যাচটি না হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ভারত ও পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সিরিজে অংশ নেয় না। আইসিসির বৈশ্বিক টুর্নামেন্টেই কেবল মুখোমুখি হয় দল দুটি। ক্রিকেট বিশ্বে সবচেয়ে বেশি দর্শক ও বাণিজ্যিক আগ্রহ তৈরি করে এই ম্যাচ। ফলে বৈশ্বিক আসরের মোট আয়ের বড় অংশই নির্ভর করে ভারত–পাকিস্তান লড়াইয়ের ওপর।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একটি ভারত–পাকিস্তান টি–টোয়েন্টি ম্যাচের সামগ্রিক বাণিজ্যিক মূল্য কয়েক শ কোটি ডলারের সমান। সম্প্রচার স্বত্ব, বিজ্ঞাপন, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আয়ের উৎস মিলিয়ে এই ম্যাচকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে লাভজনক ইভেন্ট হিসেবে ধরা হয়। অন্য কোনো একক ম্যাচের আর্থিক গুরুত্ব এর কাছাকাছিও নয়।

বিশেষ করে বিজ্ঞাপন বাজারে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। সাধারণত এই ম্যাচে বিজ্ঞাপনের সময়ের মূল্য অন্যান্য ম্যাচের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি হয়ে থাকে। ফলে ম্যাচটি সূচি থেকে বাদ পড়লে পুরো টুর্নামেন্টের আর্থিক পরিকল্পনাই নড়বড়ে হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে তাৎক্ষণিক চাপ পড়বে সম্প্রচার স্বত্বধারীদের ওপর। বড় ম্যাচটি না থাকায় বিজ্ঞাপন ও স্পনসর আয় প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কমে যাবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান আইসিসির কাছে আর্থিক ছাড় বা ক্ষতিপূরণ চাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এনেছে বলে জানা গেছে।

আইসিসির কেন্দ্রীয় রাজস্ব কমে গেলে তার প্রভাব পড়বে সদস্য বোর্ডগুলোর বরাদ্দে। এতে শুধু বড় বোর্ড নয়, বরং সহযোগী ও ছোট পূর্ণ সদস্য দেশগুলোও আর্থিক সংকটে পড়তে পারে, যারা আইসিসির অনুদানের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচটি না হলে ভারত ও পাকিস্তান—দুই বোর্ডই সরাসরি ও পরোক্ষভাবে বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাবে। ভারতের ক্ষেত্রে এই ক্ষতি সামাল দেওয়া তুলনামূলক সহজ হলেও পাকিস্তানের জন্য বিষয়টি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। পিসিবির বার্ষিক আয়ের একটি বড় অংশ আইসিসি থেকে পাওয়া রাজস্বের ওপর নির্ভরশীল।

এ ছাড়া আর্থিক ক্ষতির বাইরেও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সম্প্রচারকারী ও স্পনসররা অনিশ্চয়তা এড়িয়ে চলতে চায়। ফলে এই বর্জনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে পাকিস্তানের ম্যাচগুলোর বাণিজ্যিক মূল্য কমিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘমেয়াদে এটি পিসিবির রাজস্ব প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন

  • ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
Moeen Ali moves from IPL to PSL