Wednesday, February 4, 2026

রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধের শর্তে ভারতীয় পণ্যে শুল্ক ছাড় যুক্তরাষ্ট্রের


ফাইল ছবিঃ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় দেশটির বহু ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, কারণ যুক্তরাষ্ট্র অনেক ভারতীয় শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। (সংগৃহীত । আল জাজিরা । ইভান ভুচ্চি/এপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হচ্ছে। এর বিনিময়ে ভারতকে বাণিজ্য বাধা শিথিল করা, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও সম্ভাব্যভাবে ভেনেজুয়েলা থেকে জ্বালানি আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির অনুরোধ এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র–ভারতের মধ্যে একটি বাণিজ্য সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক তাৎক্ষণিকভাবে কমানো কার্যকর হবে।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ দণ্ডমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, সেটিও প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে আগের দ্বিগুণ শুল্কব্যবস্থার অবসান হলো।

চুক্তির অংশ হিসেবে ভারত আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন খাতে পাঁচ শত বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানান ট্রাম্প।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনাকে তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি একে ভারতের ১৪০ কোটির বেশি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন বলে উল্লেখ করেন।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই সমঝোতা দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর বড় অগ্রগতি হলেও এটি পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নাকি কেবল শুল্কসংক্রান্ত সমঝোতা—তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মতোই ভারতের পণ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তুলনামূলক প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি হবে বলে মনে করছেন অনেকে।

প্রসঙ্গত, গত বছর রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধে চাপ দিতে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়েছিল ওয়াশিংটন। এর প্রভাব ভারতীয় শেয়ারবাজারেও পড়েছিল, যেখানে বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক এই শুল্ক ছাড় ভারতের জন্য কিছুটা স্বস্তি আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর মধ্যেই ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন