- ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শীতকালীন পরিস্থিতিতে ঘোষিত স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পরই এই আক্রমণ শুরু হয় বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানিয়েছেন, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত রাশিয়া অন্তত ৪৫০টি ড্রোন এবং ৬০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তাঁর অভিযোগ, তীব্র শীত নামার অপেক্ষা করেই রাশিয়া আবারও বিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদন স্থাপনায় হামলা জোরদার করেছে। বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা মাইনাস ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে।
এই হামলায় কিয়েভে অন্তত দুইজন এবং খারকিভে আরও দুইজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানান, হামলার ফলে রাজধানীর প্রায় ১ হাজার ১৭০টি আবাসিক ভবন গরমের সংযোগ হারিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।
কিয়েভ সিটি মিলিটারি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো বলেন, ‘তীব্র শীতের মধ্যেই শহরটিকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে।’ তাঁর দাবি, অন্তত পাঁচটি এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তিনটি আবাসিক ভবন ও একটি কিন্ডারগার্টেন ভবন আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ওপরের তলা আগুনে জ্বলতে দেখা গেছে।
খারকিভের মেয়র ইগর তেরেখভ বলেন, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল শহরটিকে ‘সর্বোচ্চ ধ্বংসের মুখে ফেলে তীব্র শীতে তাপহীন করে দেওয়া’। হামলার পর নেটওয়ার্ক জমে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে কর্তৃপক্ষকে প্রায় ৮২০টি ভবনের তাপ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়েছে।
এ ছাড়া খারকিভ অঞ্চলের ইজিয়ুম ও বালাকলিয়া শহরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম। উত্তরাঞ্চলীয় সুমি শহরে দুটি আবাসিক ভবনও হামলার শিকার হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়ায় একটি ড্রোন হামলায় ৩৮ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, তীব্র শীতের কারণে রাশিয়া সাময়িকভাবে ইউক্রেনের শহরগুলোতে হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে। তবে মস্কো জানিয়েছিল, এই বিরতি কেবল স্বল্প সময়ের জন্য এবং তা রবিবার পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ঘোষণার পরও রাশিয়া হামলা পুরোপুরি বন্ধ করেনি।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নতুন দফার আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মন্তব্য করেছেন, ‘কঠোর শীতকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালানো রাশিয়ার কাছে কূটনীতির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
সব মিলিয়ে, সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার আগমুহূর্তে এই হামলা ইউক্রেন সংকটে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং শীতের মধ্যে মানবিক পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।