- ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় অস্থির প্রদেশ বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক সমন্বিত বন্দুক ও বোমা হামলার পর শুরু হওয়া নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ১৪৫ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এসব হামলায় প্রায় ৫০ জন নিহত হওয়ার একদিন পর রোববার এই তথ্য জানানো হয়।
শনিবার ভোর থেকে বেলুচিস্তানের একাধিক জেলায় একযোগে চালানো হামলায় ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক, যার মধ্যে পাঁচজন নারী ছিলেন, এবং ১৭ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হন। পরে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক অভিযান শুরু করে।
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি রোববার কুয়েটায় সাংবাদিকদের বলেন, হামলার পরপরই সেনা ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামে পরিচিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর ১৪৫ সদস্যকে হত্যা করেছে। এই শব্দটি সরকার নিষিদ্ধ ঘোষিত বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) বোঝাতে ব্যবহার করে থাকে। তাঁর দাবি, নিহতদের কয়েকজন আফগান নাগরিকও রয়েছেন।
বুগতি জানান, গত দুই দিনে নিহত যোদ্ধার সংখ্যা কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। তিনি আরও বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হামলার আগেই নিরাপত্তা বাহিনী কিছু প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছিল। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ৪১ জন এবং শনিবার ৯২ জন যোদ্ধা নিহত হন।
এই হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বিএলএ। ঘটনার পর প্রাদেশিক সরকার বেলুচিস্তানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি করেছে। এতে জনসমাবেশ ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যান চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে এবং জনসমক্ষে পরিচয় গোপনকারী মুখঢাকা ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তান সরকার হামলার পেছনে বিদেশি মদদের অভিযোগ তুলেছে। মুখ্যমন্ত্রী বুগতি দাবি করেন, ভারতের সমর্থনপুষ্ট সন্ত্রাসীরা এ হামলায় জড়িত এবং বিএলএর শীর্ষ নেতারা আফগানিস্তান থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে ভারত ও আফগানিস্তান উভয়ই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগকে “ভিত্তিহীন” বলে উল্লেখ করে বলেছে, পাকিস্তানের উচিত নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধানে মনোযোগ দেওয়া।
বেলুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে দরিদ্র প্রদেশগুলোর একটি। দীর্ঘদিন ধরে এখানে স্বায়ত্তশাসন ও প্রাকৃতিক সম্পদের ন্যায্য বণ্টনের দাবিতে সশস্ত্র বিদ্রোহ চলছে। বিএলএ নিয়মিতভাবে নিরাপত্তা বাহিনী এবং উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মরত বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে।
সর্বশেষ হামলায় কুয়েটা, গওয়াদর, মাস্তাং ও নোশকি জেলায় প্রায় একযোগে আক্রমণ চালানো হয়। নিরাপত্তা স্থাপনায় গুলি চালানো, আত্মঘাতী হামলার চেষ্টা এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটে। কুয়েটা শহরে পোড়া যানবাহন, ক্ষতিগ্রস্ত পুলিশ স্থাপনা ও সিলগালা করা সড়কগুলোতে হামলার চিহ্ন স্পষ্ট দেখা গেছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ জানান, হামলার কয়েকটিতে নারী যোদ্ধার অংশগ্রহণ ছিল এবং সাম্প্রতিক সময়ে হামলাকারীরা বেশি করে সাধারণ মানুষ ও শ্রমজীবীদের লক্ষ্য করছে। যুক্তরাষ্ট্র এসব হামলার নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। দেশটি বিএলএকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।