- ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) দেরিতে হলেও কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন–সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করেছে। শুক্রবার একসঙ্গে উন্মুক্ত করা হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠা নথি, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি ও প্রায় ২ হাজার ভিডিও—যা এপস্টেইন–সংক্রান্ত সরকারি তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ধাপ।
গত বছর পাস হওয়া আইনের মাধ্যমে এসব নথি প্রকাশ বাধ্যতামূলক হলেও নির্ধারিত সময়সীমা মিস করেছিল ডিওজে। ছয় সপ্তাহ দেরিতে প্রকাশের ব্যাখ্যায় উপ-অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ বলেন, জনগণের কাছে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে এই নথিগুলো প্রকাশ করা হয়েছে।
নথিগুলোতে এপস্টেইনের কারাবাসকালীন মানসিক মূল্যায়ন, কারাগারে তার মৃত্যুর পরিস্থিতি, সহযোগী ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্তসংক্রান্ত তথ্যসহ নানা বিষয় রয়েছে। ম্যাক্সওয়েল ইতোমধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্কদের পাচারে সহায়তার দায়ে দণ্ডিত। এছাড়া বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে এপস্টেইনের ই-মেইল আদান-প্রদানের নথিও এতে অন্তর্ভুক্ত।
প্রকাশিত নথিতে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ই-মেইলে বাকিংহাম প্যালেসে নৈশভোজ ও এক রুশ নারীর সঙ্গে পরিচয়ের প্রস্তাবের কথাও উল্লেখ রয়েছে। যদিও এসব নথিতে কোনো অপরাধের সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবু প্রিন্স অ্যান্ড্রু তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ বরাবরের মতোই অস্বীকার করেছেন।
এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগের প্রসঙ্গ এসেছে আরও বহু পরিচিত নামের ক্ষেত্রে। ভার্জিন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড ব্র্যানসন, সাবেক ব্রিটিশ রাজনীতিক লর্ড ম্যান্ডেলসন, এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামও নথিতে একাধিকবার উল্লেখ রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, প্রেসিডেন্টকে ঘিরে যেসব অভিযোগ এসেছে, সেগুলো ভিত্তিহীন ও প্রমাণবিহীন।
প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সঙ্গে এপস্টেইনের ই-মেইলও নথিতে রয়েছে। সেখানে এপস্টেইনের দ্বীপে যাওয়ার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে কথাবার্তা দেখা গেলেও, মাস্ক সেখানে কখনো গিয়েছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মাস্ক নিজেও দাবি করেছেন, তিনি কোনো অপরাধে জড়িত নন এবং এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুতর অপরাধীদের বিচার হওয়াই তার কাছে মুখ্য।
এদিকে বিল গেটসকে ঘিরে নথিতে থাকা কিছু দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্ভট বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তার প্রতিনিধিরা। তাদের ভাষ্য, এসব দাবি এপস্টেইনের হতাশা ও কুৎসা রটানোর প্রচেষ্টারই প্রতিফলন।
নথি প্রকাশ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে ভুক্তভোগীদের পরিচয় সুরক্ষা নিয়ে। মানবাধিকার আইনজীবী গ্লোরিয়া অলরেড অভিযোগ করেছেন, কিছু ক্ষেত্রে নাম আংশিকভাবে মুছে দেওয়া হলেও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে, যা ভুক্তভোগীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
ডিওজে জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সংশোধন ও সম্পাদনার কাজ চলছে। তবে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের দাবি, এখনো কয়েক মিলিয়ন নথি অকারণে আটকে রাখা হয়েছে।
এই বিপুল নথি প্রকাশের মাধ্যমে এপস্টেইন–সংক্রান্ত তদন্ত কার্যত শেষ কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। ডিওজে বলছে, তাদের পর্যালোচনা প্রায় শেষ, তবে সমালোচকদের মতে, সত্য উদঘাটনের পথ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।