- ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বিশ্বসংগীতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আসর গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে এবার ইতিহাস, প্রতিবাদ ও বিনোদনের এক ব্যতিক্রমী মেলবন্ধন দেখা গেছে। রেকর্ড ভাঙা অর্জন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বার্তা—সব মিলিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল এবারের আয়োজন।
গ্র্যামির ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছেন মার্কিন র্যাপ তারকা কেনড্রিক লামার। এবারের আসরে পাঁচটি পুরস্কার জিতে তিনি র্যাপারদের মধ্যে সর্বাধিক গ্র্যামি জয়ের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন জে-জেডকে। লামারের মোট গ্র্যামির সংখ্যা এখন ২৭।
প্রাক্-সম্প্রচার পর্বেই তিনি সেরা র্যাপ পারফরম্যান্স, সেরা মেলোডিক র্যাপ পারফরম্যান্স ও সেরা র্যাপ সং—এই তিন বিভাগে পুরস্কার পান। পরে মূল মঞ্চে সেরা র্যাপ অ্যালবাম এবং সিজারের সঙ্গে যৌথভাবে রেকর্ড অব দ্য ইয়ার জেতেন। পুরস্কার গ্রহণের সময় লামার বলেন, তিনি নিজের অনুভূতি কথার চেয়ে সংগীতের মাধ্যমেই ভালোভাবে প্রকাশ করতে পারেন।
গ্র্যামিতে আরেকটি বড় ইতিহাস গড়েছেন পুয়ের্তো রিকোর শিল্পী ব্যাড বানি। প্রথম স্প্যানিশ-ভাষী শিল্পী হিসেবে তিনি অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার পুরস্কার জিতেছেন। তাঁর অ্যালবাম ‘ডেবি তিয়ার মাস ফোতোস’ এই স্বীকৃতি পায়। মঞ্চে উঠে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেন এবং অভিবাসীদের মানবিক মর্যাদার কথা তুলে ধরেন। এই বিভাগ ছাড়াও তিনি আরও দুটি গ্র্যামি জিতেছেন।
এবারের গ্র্যামিতে রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। বহু শিল্পী তাঁদের পোশাকে ‘আইস আউট’ লেখা পিন পরেন, যা অভিবাসন নীতির প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে। গ্লোরিয়া এস্তেফান, অলিভিয়া ডিন ও শাবুজির মতো শিল্পীরা বক্তব্যে অভিবাসীদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। বিলি আইলিশ ও সিজার বক্তব্যেও উঠে আসে সামাজিক অনিশ্চয়তা ও পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা।
শেষবারের মতো গ্র্যামি সঞ্চালনা করেন ট্রেভর নোয়া। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টানেন, যা নিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র সমালোচনা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি অনুষ্ঠানকে ‘দেখার অযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন এবং ট্রেভর নোয়ার কটাক্ষ করেন।
সং অব দ্য ইয়ার জিতেছেন বিলি আইলিশ, বেস্ট পপ সলো পারফরম্যান্স পেয়েছেন লোলা ইয়ং। সিনথিয়া আরিভো ও আরিয়ানা গ্রান্দে যৌথভাবে বেস্ট পপ ডুয়ো বা গ্রুপ পারফরম্যান্স জেতেন। লেডি গাগা পান সেরা পপ ভোকাল অ্যালবামের পুরস্কার।
বিশেষ আলোচনায় ছিল ৯০ বছর বয়সে দালাই লামার প্রথম গ্র্যামি জয়, যা তিনি পেয়েছেন তাঁর স্পোকেন-ওয়ার্ড অ্যালবামের জন্য। সেরা মিউজিক্যাল ফিল্ম বিভাগে ‘মিউজিক বাই জন উইলিয়ামস’ পুরস্কার জিতে নির্মাতা স্টিভেন স্পিলবার্গের ইগট (এমি, গ্র্যামি, অস্কার ও টনি) অর্জন পূর্ণ হয়। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো কোনো কে-পপ গান গ্র্যামি জিতে নেয়।
পুরস্কারের পাশাপাশি লালগালিচা ও মঞ্চ পরিবেশনেও ছিল চমক। চ্যাপেল রোনের পোশাক নিয়ে আলোচনা যেমন হয়েছে, তেমনি লেডি গাগা আলোচনায় এসেছেন অভিনব পারফরম্যান্সে। সাবরিনা কার্পেন্টার, ব্রুনো মার্স ও জাস্টিন বিবারসহ একাধিক তারকার পরিবেশনা দর্শক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
সব মিলিয়ে, এবারের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড কেবল সংগীতের উৎকর্ষ উদ্যাপনেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা হয়ে উঠেছে সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন।