- ০৪ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার, পলাতক অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ঘটনার নেপথ্যের কারণ উদ্ঘাটনের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি। বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংগঠনের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের জানান, দাবিগুলো আদায়ের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে মশালমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হবে। একই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানেও কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। তদন্ত প্রতিবেদন একাধিকবার পেছানো হয়েছে এবং জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, হত্যার ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন ব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সামনে এলেও প্রকৃত কারণ ও পেছনের সংশ্লিষ্টতা এখনো স্পষ্ট হয়নি। এ কারণে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সব দিক উদ্ঘাটনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য নেপথ্য কারণ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নও উত্থাপন করা হয়। সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে দেশি ও আন্তর্জাতিক কোনো পক্ষের সম্পৃক্ততা থাকলে তা প্রকাশ করা উচিত।
এ সময় সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং ঘটনার পর অভিযুক্তদের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আবদুল্লাহ আল জাবের। তিনি বলেন, ঘটনার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলে অভিযুক্তদের দেশত্যাগ রোধ করা সম্ভব হতে পারত।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, বিভিন্ন বেসরকারি অনুসন্ধানমূলক সূত্র থেকে কিছু তথ্য সামনে এলেও রাষ্ট্রীয় তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জনসাধারণ এখনো পর্যাপ্ত তথ্য পাচ্ছে না।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে তারা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের প্রকাশনা সম্পাদক ফাহিম মীর, সদস্য হাবিবুল্লাহ মিসবাহসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার নিশ্চিত করার দাবি অব্যাহত রয়েছে।