- ০৪ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি একটি হত্যা মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা আরও ছয়টি মামলায় কেন জামিন দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
বুধবার বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পৃথক সাতটি জামিন আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় দীপু মনিকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়েছে। মামলাটি জুলাই আন্দোলনের সময় এক ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় করা হয়েছিল। এ মামলার এজাহারে তাঁর নাম উল্লেখ ছিল না এবং তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগও উপস্থাপিত হয়নি বলে শুনানিতে দাবি করেন তাঁর আইনজীবীরা।
দীপু মনির পক্ষে আদালতে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রমজান আলী শিকদার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. হেমায়েত উল্লাহ।
আদালতের আদেশের বিষয়ে আইনজীবী রমজান আলী শিকদার জানান, একটি মামলায় জামিনের পাশাপাশি বাকি ছয়টি মামলায় আদালত রুল জারি করেছেন। এসব মামলাও হত্যার অভিযোগসংক্রান্ত এবং রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দায়ের করা হয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে দীপু মনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
দীপু মনির আইনজীবীদের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, সহিংসতা, দুর্নীতি ও অন্যান্য অভিযোগে প্রায় ৭০টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার কয়েকটিতে জামিনের আবেদন নিম্ন আদালতে নাকচ হওয়ার পর হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।
রাজনীতির পাশাপাশি চিকিৎসা ও আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষাপ্রাপ্ত দীপু মনি দীর্ঘদিন দেশের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তাঁর মন্ত্রিত্বের অবসান ঘটে।
হাইকোর্টের সর্বশেষ আদেশের ফলে একটি মামলায় জামিন পেলেও অন্যান্য মামলার আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।