Friday, February 6, 2026

পশ্চিম তীরে জানুয়ারিতে ইসরায়েলি সহিংসতায় প্রায় ৭০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত


ছবিঃ পশ্চিম তীরের রাস আইন আল-আউজা গ্রামের ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা ১৬ জানুয়ারি ২০২৬-এ বাড়ি ছেড়ে বের হওয়ার আগে তাদের জিনিসপত্র বস্তাবন্দি করছেন, বৃদ্ধমান বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য (সংগৃহীত । আল জাজিরা । মাহমুদ ইলিয়ান/এপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও হয়রানির কারণে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রায় ৭০০ ফিলিস্তিনি তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এটি ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের পর এক মাসে সর্বোচ্চ বাস্তুচ্যুতির ঘটনা।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) জানায়, জানুয়ারি মাসে অন্তত ৬৯৪ জন ফিলিস্তিনি জোরপূর্বক নিজ এলাকা ত্যাগ করেছেন। সংস্থাটি বলছে, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এখন বাস্তুচ্যুতির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে।

ওসিএইচএর বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জানুয়ারিতে বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার পেছনে জর্ডান উপত্যকার রাস আইন আল-আউজা এলাকায় একটি সম্পূর্ণ পশুপালনভিত্তিক সম্প্রদায়ের উচ্ছেদ বড় ভূমিকা রেখেছে। সেখানে টানা কয়েক মাস ধরে হয়রানি ও চাপের মুখে প্রায় ১৩০টি পরিবার এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়।

জাতিসংঘ জানায়, শুধু ওই সম্প্রদায় থেকেই প্রায় ৬০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যা গত তিন বছরে একক কোনো সম্প্রদায়ের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলার কারণে সবচেয়ে বড় উচ্ছেদের ঘটনা। সংস্থাটি আরও জানায়, জানুয়ারি ২০২৬ অক্টোবর ২০২৩-এর পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ একক মাসিক বাস্তুচ্যুতির রেকর্ড।

এদিকে শুক্রবার ভোরে নাবলুসের দক্ষিণে শাকারা নামের এক বেদুইন এলাকায় বসতি স্থাপনকারীরা হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তারা বাড়িঘরে ঢুকে বাসিন্দাদের ওপর হামলা চালায়।

ইসরায়েল ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এসব বসতি অবৈধ হলেও বর্তমানে সেখানে পাঁচ লক্ষাধিক ইসরায়েলি বসবাস করছে। অন্যদিকে পশ্চিম তীরে বসবাস করছে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি।

ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন ‘পিস নাউ’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বসতি স্থাপনকারীরা পশুপালনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের কৃষিজমিতে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে এবং ধীরে ধীরে স্থানীয়দের ওই জমিতে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সহায়তায় ঘরবাড়ি, ফসল ও জলপাই বাগান ধ্বংস করা হচ্ছে।

পশ্চিম তীর সুরক্ষা কনসোর্টিয়ামের পরিচালক আলেগ্রা পাচেকো বলেন, ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ না থাকায় বসতি স্থাপনকারীরা কার্যত দায়মুক্তি ভোগ করছে। তিনি অভিযোগ করেন, গাজার দিকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ কেন্দ্রীভূত থাকায় পশ্চিম তীরে চলমান সহিংসতা ও ধীরে ধীরে জাতিগত নিধনের বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।

জাতিসংঘ আরও জানায়, জানুয়ারিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অভিযানে ও অনুমতিবিহীন স্থাপনা উচ্ছেদের কারণে অতিরিক্ত ১৮২ জন ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন