- ০৪ অক্টোবর, ২০২৫
খুলনা নিউজ ডেস্ক: মোঃ আরাফাত হোসেন
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রচার–প্রচারণা এখন তুঙ্গে। ভোটের মাঠে নামা প্রার্থীদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, দলীয় শক্তি এবং অতীত নির্বাচনী ইতিহাস মিলিয়ে প্রতিটি আসনেই তৈরি হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণ। কোথাও ঐতিহ্যগত ঘাঁটি রক্ষার লড়াই, কোথাও আবার হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে।
খুলনা-১: সংখ্যালঘু ভোটেই নির্ধারণ হতে পারে ফল
খুলনা-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আমির এজাজ খান ও দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দীর মধ্যে মূল লড়াই চলছে। ঐতিহাসিকভাবে এটি আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০০১ সালে নির্বাচন করেও জয় পাননি আমির এজাজ খান। বিশ্লেষকদের মতে, এ আসনের ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করছে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভোটারদের ভোটের সিদ্ধান্তের ওপর। দুই প্রার্থীই জোরেশোরে প্রচার চালাচ্ছেন।
খুলনা-২: ঐতিহ্য ধরে রাখতে চায় বিএনপি
এই আসনে ধানের শীষের নজরুল ইসলাম মঞ্জু, দাঁড়িপাল্লার জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল ও হাতপাখার মুফতি আমান উল্লাহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এটি ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির আসন হিসেবে পরিচিত। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজে এই আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন ২০০১ সালে । সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। জামায়াতের প্রার্থীও ছেড়ে কথা বলছে না ।
খুলনা-৩: স্বতন্ত্র প্রার্থীতে বাড়ছে উত্তাপ
ধানের শীষের রকিবুল ইসলাম বকুল, দাঁড়িপাল্লার মাহফুজুর রহমান, হাতপাখার হাফেজ আবদুল আওয়াল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এস. এম. আরিফুর রহমান মিঠু এই চার প্রার্থীর অংশগ্রহণে খুলনা-৩ আসনে প্রতিযোগিতা জমে উঠেছে। বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হলেও স্থানীয়ভাবে পরিচিত স্বতন্ত্র প্রার্থীর কারণে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
খুলনা-৪: তৃণমূল জনপ্রিয়তায় এগিয়ে বিএনপি
এই আসনে ধানের শীষের আজিজুল বারী হেলাল, ১০ দলীয় জোটের সাখওয়াত ও হাতপাখার ইউনুস আহম্মেদ শেখ মাঠে রয়েছেন। ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগের আসন হলেও আজিজুল বারী হেলালের তৃণমূল জনপ্রিয়তা তাকে হট ফেভারিটে পরিণত করেছে। সামগ্রিকভাবে বিএনপি এখানে এগিয়ে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
খুলনা-৫: সাবেক এমপি বনাম সংগঠক
ধানের শীষের আসগর আলী লবী, দাঁড়িপাল্লার মিঞা গোলাম পরোয়ার ও হাতপাখার শেখ মুজিবর রহমানের মধ্যে লড়াই চলছে এই আসনে। সাবেক এমপি হওয়ায় মিঞা গোলাম পরোয়ার কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও এলাকায় সক্রিয় আসগর আলী লবীর কারণে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
খুলনা-৬: ভোটব্যাংক বনাম নতুন সমীকরণ
এই আসনে ধানের শীষের মনিরুল ইসলাম বাপ্পি, দাঁড়িপাল্লার আবুল কালাম আজাদ ও হাতপাখার আছাদুল্লাহ ফকির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামায়াতের ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংক থাকলেও এবারের নির্বাচনে মনিরুল ইসলাম বাপ্পিকে ফেভারিট হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখানেও জমে উঠেছে প্রতিযোগিতা।
খুলনার ছয়টি আসনেই এবার ভোটের লড়াই বহুমাত্রিক। কোথাও ইতিহাস প্রভাব ফেলছে, কোথাও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বা স্থানীয় সমীকরণ বদলে দিচ্ছে হিসাব। শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাবে কোন আসন তা জানতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত।