- ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আংশিকভাবে খুলে দেওয়া রাফাহ সীমান্ত পার হয়ে আরও ২৫ জন ফিলিস্তিনি গাজায় ফিরেছেন। তবে ফেরার এই যাত্রা তাদের জন্য ছিল শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত কষ্টকর। ফেরত আসা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি নিরাপত্তা তল্লাশির সময় তারা অপমানজনক আচরণের শিকার হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ভোররাতে তারা গাজায় প্রবেশ করেন। মিসরের এল আরিশ শহর থেকে যাত্রা শুরু করার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর বাসে করে তাদের দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে অবস্থিত নাসের হাসপাতালে পৌঁছানো হয়। এটি সীমান্ত আংশিক খোলার পর তৃতীয় দফায় ফিলিস্তিনিদের প্রত্যাবর্তন।
একই দিনে গুরুতর অসুস্থ ১৩ জন ফিলিস্তিনি রোগীকে পরিবারের সদস্য ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধিদের সঙ্গে সীমান্তের দিকে নেওয়া হয়। তাদের বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হচ্ছে।
ফেরত আসা কয়েকজন ফিলিস্তিনি জানান, সীমান্ত অতিক্রমের সময় ইসরায়েলি বাহিনী তাদের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করে, অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করে এবং কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে বাধ্য করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দীর্ঘদিন পর স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হয়ে অনেকেই আবেগে ভেঙে পড়ছেন, আবার যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার দৃশ্য দেখে নীরব হয়ে যাচ্ছেন।
ফেরত আসা আইচা বালাউই নামের এক নারী বলেন, “একসঙ্গে আনন্দ আর বেদনা কাজ করছে। পরিবারকে ফিরে পেয়ে খুশি, কিন্তু নিজের দেশকে এমন ধ্বংসস্তূপে দেখে হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে। বিদেশে নিরাপদে ছিলাম, কিন্তু মন শান্ত ছিল না। গাজাই আমার আসল জায়গা।”
রাফাহ সীমান্ত মূলত গাজার প্রায় ২০ লাখ মানুষের একমাত্র প্রবেশ ও প্রস্থান পথ। যুদ্ধের অধিকাংশ সময় এটি বন্ধ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া তথাকথিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সীমান্ত আংশিকভাবে খোলা হলেও কেবল যুদ্ধের সময় গাজা ছেড়ে যাওয়া ব্যক্তিদেরই ফিরতে দেওয়া হচ্ছে। উভয় দিকেই চলাচলের ক্ষেত্রে কঠোর নিরাপত্তা যাচাই চালু রয়েছে।
এর আগে ফিরেছেন এমন কয়েকজন ফিলিস্তিনি নারী অভিযোগ করেন, তল্লাশির সময় তাদের হাত বেঁধে চোখ ঢেকে রাখা হয়েছিল এবং শরীর তল্লাশির নামে অমানবিক আচরণ করা হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, মানবিক করিডর হওয়ার কথা থাকলেও রাফাহ সীমান্তকে কার্যত নিয়ন্ত্রণ ও দমন-পীড়নের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
চিকিৎসা প্রত্যাশী রোগীদের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক নয়। চুক্তিতে প্রতিদিন ৫০ জন রোগীকে বিদেশে পাঠানোর কথা থাকলেও এ পর্যন্ত সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র কয়েক ডজন। গাজায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ জরুরি চিকিৎসার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে সীমান্তে প্রত্যাবর্তন চললেও গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার খান ইউনিস ও দেইর আল-বালাহ এলাকায় বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। পূর্ব গাজা সিটির তুফ্ফাহ এলাকায় গোলাবর্ষণ ও গুলির শব্দে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে হামলা থামেনি। এতে করে সাধারণ মানুষ একদিকে ঘরে থাকার ঝুঁকি, অন্যদিকে আবারও বাস্তুচ্যুত হওয়ার ভয়—এই দুইয়ের মাঝেই আটকে পড়েছে।