Wednesday, February 4, 2026

লিবিয়ায় নিহত মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির


ছবি: লিবিয়ার জিনতানে গ্রেপ্তারের পর তোলা সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির ছবি, ১৯ নভেম্বর ২০১১ [সংগৃহীতঃ আম্মার এল-দারউইশ/এপি ফটো]

আন্তরজাতিক ডেস্ক । PNN 

লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি–এর সবচেয়ে প্রভাবশালী ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন। লিবিয়ার স্থানীয় কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নিজ বাসভবনে তিনি প্রাণ হারান।

সাইফ আল-ইসলামের আইনজীবী খালেদ আল-জাইদি এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পৃথক পোস্টে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তবে প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর বিস্তারিত কারণ বা হামলাকারীদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

লিবিয়ার সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১৩৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত জিনতান শহরে সাইফ আল-ইসলামের বাড়িতে সশস্ত্র ব্যক্তিরা হামলা চালায়। তার রাজনৈতিক টিমের দাবি, চারজন মুখোশধারী ব্যক্তি হঠাৎ বাসভবনে ঢুকে তাকে হত্যা করে। হামলার সময় নিরাপত্তা ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডকে “কাপুরুষোচিত ও পরিকল্পিত গুপ্তহত্যা” হিসেবে আখ্যা দিয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন ত্রিপোলিভিত্তিক রাষ্ট্রীয় পরিষদের সাবেক প্রধান খালেদ আল-মিশরি।

১৯৭২ সালের জুন মাসে ত্রিপোলিতে জন্ম নেওয়া সাইফ আল-ইসলাম ছিলেন গাদ্দাফির দ্বিতীয় পুত্র। পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত ও সাবলীল ইংরেজিভাষী এই নেতা একসময় বাবার শাসনের ‘সংস্কারপন্থী মুখ’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০০০-এর দশকের শুরুতে লিবিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ক পুনর্গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তিনি গণবিধ্বংসী অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগ এবং ১৯৮৮ সালে স্কটল্যান্ডের লকারবিতে প্যান অ্যাম ফ্লাইট ১০৩ বিস্ফোরণে নিহতদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন। যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে উচ্চশিক্ষা নেওয়া সাইফ আল-ইসলাম একসময় সংবিধান সংস্কার ও মানবাধিকার রক্ষার কথাও বলেছিলেন।

তবে ২০১১ সালে গাদ্দাফিবিরোধী গণঅভ্যুত্থান শুরু হলে তিনি পুরোপুরি পারিবারিক ও গোত্রীয় আনুগত্যের পথে হাঁটেন। সরকারবিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর দমননীতির অন্যতম রূপকার হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েন। ওই সময় তিনি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

গাদ্দাফি সরকারের পতনের পর পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করে একটি মিলিশিয়া গোষ্ঠী। দীর্ঘদিন আটক থাকার পর ২০১৭ সালে সাধারণ ক্ষমার আওতায় মুক্তি পান এবং এরপর থেকেই জিনতানে আত্মগোপনে ছিলেন।

২০১১ সালের সহিংসতায় ভূমিকার অভিযোগে সাইফ আল-ইসলামের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং তাকে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তাকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত করে। ২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত অনুপস্থিতিতে তাকে মৃত্যুদণ্ডও দেয়।

সব বিতর্কের মধ্যেই ২০২১ সালে তিনি লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। তবে আইনি জটিলতা ও রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়, যা শেষ পর্যন্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া ভেঙে পড়ার অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।

দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা সাইফ আল-ইসলামের হত্যাকাণ্ড লিবিয়ার নাজুক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দেশটিতে সহিংসতা, প্রতিশোধ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের রাজনীতিতে এই হত্যাকাণ্ড নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন