- ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও মূল্যবান ধাতুর দামে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। কয়েক দিনের সাময়িক ঊর্ধ্বগতির পর শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে অস্থিরতার প্রভাবে স্বর্ণ ও রুপার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৩৫ ডলারের ঘরে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার বাজারেও দরপতন হয়েছে, যেখানে মূল্য প্রায় ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৫২ ডলারের কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে।
রুপার বাজারে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। একদিনেই রুপার দাম তিন শতাংশের বেশি কমে প্রতি আউন্স ৬৯ ডলারের নিচে নেমে গেছে। এর আগের লেনদেন সেশনেই রুপার দামে বড় ধস নামায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দরপতনের পেছনে অন্যতম কারণ হলো বিশ্বব্যাপী ইকুইটি বাজারের নিম্নমুখী প্রবণতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগ ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় বৈশ্বিক শেয়ারসূচকগুলো চাপের মুখে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পণ্যের বাজারে।
একই সঙ্গে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধি এবং ডলারের শক্তিশালী অবস্থান স্বর্ণ ও রুপার দামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বর্তমানে ডলার দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সাধারণত ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, ফলে চাহিদা কমে যায়।
মার্কিন শ্রমবাজারের দুর্বল চিত্রও বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে। সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির সুযোগ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, যা কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা তৈরি করলেও বর্তমানে ডলারের শক্ত অবস্থান সেই ইতিবাচক প্রভাবকে ম্লান করে দিচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, আগামী বছর ফেডারেল রিজার্ভ একাধিকবার সুদের হার কমাতে পারে। সাধারণভাবে সুদের হার কমলে স্বর্ণের মতো অ-ফলনশীল সম্পদের প্রতি আগ্রহ বাড়ে, তবে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানে রেখেছে।
এদিকে ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব অন্যান্য মূল্যবান ধাতুতেও পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্লাটিনামের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও প্যালাডিয়ামের দামে সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
সব মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি, ডলার ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে মূল্যবান ধাতুর বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথ। এই অস্থিরতা কতদিন স্থায়ী হবে, সেটিই এখন বিনিয়োগকারীদের প্রধান প্রশ্ন।