- ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
মহাকাশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ডেটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে আর গুঞ্জন নয়, এবার তা বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে। স্পেসএক্স সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনে (এফসিসি) এক মিলিয়ন স্যাটেলাইটের সমন্বয়ে একটি ডেটা সেন্টার নেটওয়ার্ক স্থাপনের প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। শুরুতে অনেকেই বিষয়টিকে ইলন মাস্কের কৌতুকপূর্ণ ধারণা বলে মনে করলেও, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট এই উদ্যোগ নিয়ে তিনি পুরোপুরি সিরিয়াস।
এরই মধ্যে স্পেসএক্স ও মাস্কের আরেক প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের আনুষ্ঠানিক একীভূতকরণ সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার এই সংযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ ও এআই খাতের দুই উদ্যোগকে একই ছাতার নিচে আনা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো যৌথ অবকাঠামো প্রকল্পের প্রস্তুতির অংশ হতে পারে।
এফসিসি বুধবার স্পেসএক্সের আবেদন গ্রহণ করে এ বিষয়ে জনমত আহ্বানের সময়সূচি নির্ধারণ করেছে। সাধারণত এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হলেও, এফসিসির চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আবেদনটির কথা তুলে ধরেন। এতে করে বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, রাজনৈতিকভাবে অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকলে এই প্রস্তাব অনুমোদনে বড় কোনো বাধা আসবে না।
এদিকে ইলন মাস্ক নিজেও প্রকাশ্যে মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরছেন। স্ট্রাইপের সহপ্রতিষ্ঠাতা প্যাট্রিক কলিসনের পডকাস্ট ‘চিকি পিন্ট’-এর এক সাম্প্রতিক পর্বে তিনি বলেন, পৃথিবীর তুলনায় মহাকাশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন অনেক বেশি কার্যকর। ফলে এআই ডেটা সেন্টারের অন্যতম বড় ব্যয় বিদ্যুৎ খরচ সেখানে উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
মাস্কের ভাষ্য অনুযায়ী, একই সৌর প্যানেল পৃথিবীর তুলনায় মহাকাশে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি শক্তি উৎপাদন করতে পারে। তাঁর দাবি, এ কারণেই মহাকাশে এআই অবকাঠামো বিস্তৃত করা তুলনামূলক সহজ ও সাশ্রয়ী।
তবে এই যুক্তি নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। পডকাস্টে উপস্থিত বিশ্লেষক দ্বারকেশ প্যাটেল বলেন, বিদ্যুৎ খরচই ডেটা সেন্টারের একমাত্র ব্যয় নয়। পাশাপাশি কক্ষপথে থাকা জিপিইউ বা হার্ডওয়্যার নষ্ট হলে সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ বা মেরামত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
সমালোচনা সত্ত্বেও মাস্ক নিজের অবস্থানে অনড়। তাঁর মতে, ২০২৮ সাল হবে মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টারের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট। তিনি দাবি করেন, আগামী ৩০ থেকে ৩৬ মাসের মধ্যেই অর্থনৈতিকভাবে এআই স্থাপনের সবচেয়ে লাভজনক স্থান হয়ে উঠবে মহাকাশ। আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, পাঁচ বছরের মধ্যে মহাকাশে চালু হওয়া এআই সিস্টেমের পরিমাণ পৃথিবীর সব এআই অবকাঠামোর সম্মিলিত পরিমাণকেও ছাড়িয়ে যাবে।
বর্তমানে ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক ডেটা সেন্টারের সক্ষমতা দাঁড়াবে প্রায় ২০০ গিগাওয়াট, যার অবকাঠামোগত মূল্য প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার। এই বিশাল বিনিয়োগের একটি অংশ যদি মহাকাশমুখী হয়, তবে প্রযুক্তি খাতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্পেসএক্স যেহেতু মহাকাশে উৎক্ষেপণ ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এবং এখন এর সঙ্গে একটি এআই প্রতিষ্ঠানও একীভূত হয়েছে, তাই এই ধারণা মাস্কের জন্য কৌশলগতভাবে বেশ সুবিধাজনক। বিশেষ করে সামনে স্পেসএক্স–এক্সএআই জোটের সম্ভাব্য আইপিও থাকায়, আগামী মাসগুলোতে ‘অরবিটাল ডেটা সেন্টার’ ধারণা আরও জোরালোভাবে আলোচনায় আসবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।