- ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শরিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। ২২ দফার এই ইশতেহারে দলটি ছয়টি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইশতেহারটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন দলের আমির মামুনুল হক।
ঘোষিত ইশতেহারে যে ছয়টি কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করে নাগরিকের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, স্বাধীন ও স্বার্থনির্ভর পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন, নৈতিকতা ও ঐক্যভিত্তিক সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তরুণ সমাজের উন্নয়ন।
ইশতেহারে দলটি উল্লেখ করেছে, এই ছয়টি বিষয় একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাদের মতে, এসব কর্মসূচির সমন্বিত বাস্তবায়নের মাধ্যমেই একটি ন্যায়ভিত্তিক, আত্মমর্যাদাশীল ও ইসলামি মূল্যবোধসম্পন্ন রাষ্ট্র গঠন সম্ভব।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জানিয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে তাদের ২৮ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচিত হলে দলীয় সংসদ সদস্যরা ঘোষিত অগ্রাধিকারগুলোকে সামনে রেখে ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করবেন বলে অঙ্গীকার করা হয়েছে।
ইশতেহারের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্র পরিচালনায় কুরআন ও সুন্নাহকে সর্বোচ্চ নির্দেশনা হিসেবে গ্রহণ, সুদমুক্ত ইসলামি অর্থব্যবস্থা চালু, শিক্ষাব্যবস্থাকে অভিন্ন জাতীয় সিলেবাসের আওতায় আনা এবং কওমি মাদ্রাসার উন্নয়নে পৃথক মঞ্জুরি কমিশন গঠন। পাশাপাশি ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত, কৃষিপণ্যের বিপণনে মধ্যস্বত্বভোগী নিয়ন্ত্রণ, নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা জোরদার এবং সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সাংবাদিক হত্যা ও হয়রানির ঘটনায় দ্রুত বিচার, প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুবিধা, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, গুম-খুন বন্ধে নজরদারি সেল গঠন এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথাও ইশতেহারে উল্লেখ রয়েছে।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দলের সিনিয়র নায়েবে আমির ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ইউসুফ আশরাফ। এ সময় দলের নায়েবে আমির কুরবান আলী, যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।