- ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। ইশতেহারে দলটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।
ঘোষিত ইশতেহারে বিএনপি জানিয়েছে, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এই কার্ডের আওতায় উপকারভোগী পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ অর্থ অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।
কৃষিখাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইশতেহারে বলা হয়েছে, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষিবিমা সুবিধা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে। এ সুবিধার আওতায় মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী ও কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও থাকবেন।
স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক সেবা নিশ্চিতে দেশজুড়ে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসাসেবা, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসুরক্ষা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতিতে বিএনপি জানিয়েছে, আনন্দমুখর ও কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করতে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং মিড-ডে মিল, প্রযুক্তি সহায়তা ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হবে।
ইশতেহারে তরুণ সমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষাগত দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা এবং মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।
পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় স্বেচ্ছাশ্রম ও জনগণের অংশগ্রহণে নদী–খাল খনন ও পুনঃখনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ কর্মসূচি চালুর অঙ্গীকার রয়েছে ইশতেহারে।
ডিজিটাল অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম চালু, ই-কমার্স খাতে আঞ্চলিক হাব গড়ে তোলা এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে।
বিএনপি নেতারা বলেছেন, এই ইশতেহার কেবল নির্বাচনী ঘোষণা নয়; এটি জনগণের সঙ্গে একটি নতুন রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক চুক্তির প্রতিফলন। দলটি প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে ন্যায়, মানবিকতা ও অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে বিশ্বাস করে।
বিএনপি আরও জানায়, জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে ভোটের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য।