Monday, October 19, 2026

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় প্রাণহানি অব্যাহত, নিহত আরও সহস্রাধিক ফিলিস্তিনি


ছবিঃ গাজা শহরে ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা (সংগৃহীত । আল জাজিরা /দাউদ আবু আলকাস/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN 

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক মাস পরও সহিংসতা ও মানবিক সংকট থামেনি। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১,০০৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

যুদ্ধবিরতির ফলে বড় আকারের সামরিক সংঘর্ষ কমলেও চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন হয়নি। এই ধাপে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণের মতো সংবেদনশীল বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি আরও বিস্তৃত হয়েছে। এর ফলে বহু পরিবারকে নতুন করে নিজেদের বসতি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হতে হয়েছে।

মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর মতে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। খাদ্য, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সেবার ঘাটতি এখনো প্রকট আকারে বিদ্যমান। সীমিত প্রবেশাধিকারের কারণে ত্রাণ কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য খাতের পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। গাজার অধিকাংশ হাসপাতাল যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির কারণে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি হাসপাতাল আংশিকভাবে সেবা দিলেও পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত কোনো হাসপাতাল নেই বলে জানা গেছে।

মানবাধিকার ও ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে, অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য যুদ্ধবিরতিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। ফলে লাখো মানুষ এখনো অনিশ্চয়তা ও সংকটের মধ্যে জীবনযাপন করছে।

এদিকে হামাসের রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংগঠনটির অস্ত্র সমর্পণের প্রশ্নে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফিলিস্তিনি বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে এ বিষয়ে অবস্থান নির্ধারণ করা হবে বলে তারা জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর থেকে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং প্রায় ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কেবল যুদ্ধবিরতি নয়, বরং রাজনৈতিক সমাধান, পুনর্গঠন কার্যক্রম এবং মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করাও জরুরি। অন্যথায় গাজার সংকট দীর্ঘমেয়াদি আকার ধারণ করতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন