Thursday, June 18, 2026

নিরাপত্তার স্বার্থে ফ্লোরিডার অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ থেকে সব অভিবাসী অন্যত্র স্থানান্তর


ছবিঃ ৩১শে মে অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ অভিবাসন আটক কেন্দ্রের বাইরে রোজ হ্যালি প্রতিবাদ করছেন (সংগৃহীত। আল জাজিরা /লিন স্লাডকি/এপি ফটো)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN 

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত বিতর্কিত অভিবাসী আটককেন্দ্র ‘অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ’ থেকে সব বন্দিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, আটলান্টিক অঞ্চলে হারিকেন মৌসুম শুরু হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ডিএইচএসের মুখপাত্র জানান, আটককেন্দ্রে থাকা সব অভিবাসীকে অন্যান্য স্থাপনায় স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে কতজনকে সরানো হয়েছে বা তাদের কোথায় নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ফ্লোরিডার বিগ সাইপ্রেস ন্যাশনাল প্রিজার্ভ এলাকার একটি পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটিতে নির্মিত এই কেন্দ্রটি শুরু থেকেই ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। ২০২৫ সালে চালু হওয়া কেন্দ্রটির নামকরণ করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক আলকাট্রাজ কারাগারের আদলে। চারপাশের জলাভূমি, কুমির ও অজগর অধ্যুষিত পরিবেশকে পালানোর বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তৎকালীন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেসান্টিস কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন। অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির অংশ হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বলে তুলে ধরা হয়েছিল।

তবে কেন্দ্রটি চালুর পর থেকেই মানবাধিকার সংগঠন, আইনজীবী ও স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি ওঠে। মিকোসুকি ও সেমিনোল জনগোষ্ঠীর নেতারা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রটির অবস্থান তাদের ঐতিহ্যবাহী বসতি ও সাংস্কৃতিক স্থানের জন্য হুমকি তৈরি করেছে।

এ ছাড়া আটক ব্যক্তিদের আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগে বাধা, স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি এবং অমানবিক পরিবেশে আটকে রাখার অভিযোগও সামনে আসে। কয়েকজন বন্দি খাবারের মান ও চিকিৎসাসেবা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ করেছিলেন। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে একাধিক মামলা ও মানবাধিকার অভিযোগ দায়ের হয়।

আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রটি বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের মতে, দূরবর্তী স্থানে অবস্থানের কারণে বন্দিদের আইনগত সহায়তা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।

পর্যবেক্ষকদের মতে, কেন্দ্রটি খালি করার সিদ্ধান্ত শুধু আবহাওয়াজনিত ঝুঁকির কারণে নয়, বরং দীর্ঘদিনের সমালোচনা, ব্যয়বহুল পরিচালনা এবং আইনি চ্যালেঞ্জের সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে।

এদিকে আটলান্টিক মহাসাগরে ২০২৬ সালের হারিকেন মৌসুমের প্রথম নামকরণ করা ঝড় ‘আর্থার’ সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষাপটে কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। ঝড়টি বর্তমানে মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থান করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বন্দিদের স্থানান্তর একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও ভবিষ্যতে এ ধরনের বিতর্কিত আটককেন্দ্র পুনরায় চালু না করার বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান প্রয়োজন।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন