Thursday, June 18, 2026

ইরান চুক্তির ৩০০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা নিয়ে নিজ দলেই সমালোচনার মুখে ট্রাম্প


ছবিঃ মার্কিন সিনেটর বিল ক্যাসিডি ১৭ জুন, ২০২৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ইরান ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে হওয়া চুক্তির সমালোচনা করার পর সিনেট কক্ষ ত্যাগ করছেন। (সংগৃহীত। আল জাজিরা /ইভান ভুচি/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সমঝোতা চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়ে উঠেছে। চুক্তির বিভিন্ন শর্ত, বিশেষ করে ইরানের পুনর্গঠনে বিপুল অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতর থেকেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

বুধবার স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় উভয় দেশ সব ধরনের সামরিক সংঘাত বন্ধে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে। চুক্তিতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন বা সংগ্রহ না করার অঙ্গীকার করেছে।

তবে রিপাবলিকান নেতাদের একটি অংশ মনে করছে, চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করার জন্য পর্যাপ্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেই। তাদের মতে, কেবল প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সমাধান করা সম্ভব নয়।

রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি চুক্তিটিকে সাম্প্রতিক দশকের অন্যতম বড় পররাষ্ট্রনীতি ভুল বলে মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, এই সমঝোতার ফলে ইরান অর্থনৈতিক সুবিধা পেলেও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বড় ধরনের কোনো বাধ্যবাধকতার মুখে পড়েনি।

আরেক রিপাবলিকান নেতা থমাস ম্যাসি ইরানের পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, এ ধরনের বিপুল অর্থ ব্যয় মার্কিন করদাতাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও রিপাবলিকান নেতা নিকি হ্যালিও চুক্তির সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত একটি দেশের জন্য বড় অঙ্কের অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।

চুক্তিটি নিয়ে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধে আরও কঠোর শর্ত থাকা উচিত ছিল।

অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ চুক্তির কিছু দিক সমর্থন করলেও ইরানের পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সামরিক ও কৌশলগত অর্জনের পর সেই সক্ষমতা পুনর্গঠনে অর্থ ব্যয় করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হলেও এর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব নিয়ে ওয়াশিংটনে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যু এবং আর্থিক সহায়তার বিষয়গুলো আগামী দিনে মার্কিন রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন