Thursday, June 18, 2026

ডেলিভারি খাতে রোবট বিপ্লব, নিরাপত্তা ও নীতিমালা নিয়ে প্রশ্নে বিশ্বজুড়ে আলোচনা


ছবিঃ বিশ্বের কিছু শহরে ডেলিভারি রোবট এখন একটি সাধারণ দৃশ্য (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN

বিশ্বের বিভিন্ন শহরে স্বয়ংক্রিয় ডেলিভারি রোবটের ব্যবহার বাড়লেও এগুলোর নিরাপত্তা, পথচারীদের চলাচল এবং কর্মসংস্থানের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যেখানে এসব রোবটকে ভবিষ্যতের পরিবহন সমাধান হিসেবে তুলে ধরছে, সেখানে অনেক নগর কর্তৃপক্ষ ও নাগরিক এর ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন শহরে ছোট আকারের স্বয়ংক্রিয় রোবট খাবার, মুদি পণ্য ও অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করছে। ক্যামেরা, সেন্সর এবং জিপিএস প্রযুক্তির সাহায্যে পরিচালিত এসব যানবাহন ফুটপাত ব্যবহার করে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে যায়।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোসহ কয়েকটি শহরে রোবটগুলোর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক সময় পথচারীদের রোবট এড়িয়ে চলতে হয়, ফলে স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে এসব রোবটের সংখ্যা বেড়ে গেলে ফুটপাত ব্যবহার আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

শিকাগোর বাসিন্দা জন রবার্টস এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, রোবটগুলোর নিরাপত্তা ও পরিচালনাবিধি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম সীমিত করা উচিত। এ দাবিতে তিনি একটি অনলাইন স্বাক্ষর অভিযানও শুরু করেছেন।

একই ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার গ্লেনডেল শহরেও। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, রোবটগুলোর কার্যক্রম শুরু হলেও অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে পূর্বপর্যায়ে সমন্বয় হয়নি। ফলে জননিরাপত্তা, দায়বদ্ধতা এবং পরিচালনাগত নীতিমালা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, তাদের রোবটগুলো অত্যন্ত সতর্কভাবে পরিচালিত হয় এবং পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই চলাচলের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। তাদের দাবি, এসব প্রযুক্তি যানজট ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কর্মসংস্থান। শ্রমিক সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, ডেলিভারি খাতে রোবটের ব্যবহার ব্যাপক আকার ধারণ করলে অনেক কর্মীর চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে অস্থায়ী ও নিম্ন আয়ের শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে তারা মনে করছেন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী এক দশকে বিশ্বজুড়ে স্বয়ংক্রিয় ডেলিভারি রোবটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। ফলে প্রযুক্তিগত সুবিধা ও জনস্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় স্পষ্ট নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রণয়ন জরুরি হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন প্রযুক্তির প্রসার ঠেকানো সম্ভব না হলেও নাগরিকদের নিরাপত্তা, নগর অবকাঠামোর ব্যবহার এবং কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে যথাযথ নিয়মকানুন তৈরি করা প্রয়োজন। অন্যথায় প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি নতুন সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জও তৈরি হতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন