- ০৫ আগস্ট, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংকের দ্রুত সম্প্রসারণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কম্পিউটিং সেবা থেকে বাড়তি আয়—এই দুই খাতের ওপর ভর করে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্পেসএক্সের আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির মোট রাজস্ব বেড়েছে ৯২ শতাংশ।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর প্রকাশিত প্রথম প্রান্তিকভিত্তিক আর্থিক প্রতিবেদনে স্পেসএক্স জানিয়েছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের মোট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ আয় ছিল ৪ বিলিয়ন ডলার।
প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে এআই বিভাগ। এ খাত থেকে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত আয় হয়েছে। অন্যদিকে, স্টারলিংক সেবা থেকে আয় বেড়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।
তবে আয় বাড়লেও প্রান্তিকটিতে এখনো লোকসান করেছে স্পেসএক্স। দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ৫৪১ মিলিয়ন ডলার। যদিও গত বছরের একই সময়ে লোকসানের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। ফলে লোকসান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
স্পেসএক্সের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ব্রেট জনসেন জানিয়েছেন, চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর হতে যাওয়া ছয় মাসের মেয়াদি ক্লাউড সেবা চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটির আরও ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার আয় নিশ্চিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এআই স্টার্টআপ কার্সরকে পুরোপুরি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্পেসএক্সের বার্ষিকীকৃত রাজস্বের হার ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে কোম্পানিটির মোট আয় ছিল ১৮ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার।
স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক এ বিষয়ে আরও আশাবাদী অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষ্য, বছরের শেষ নাগাদ ১০০ বিলিয়ন ডলারের বার্ষিকীকৃত রাজস্ব অর্জন এখন আর অনিশ্চিত কোনো লক্ষ্য নয়। বর্তমান কার্যক্রমে বড় ধরনের নতুন উদ্যোগ না নিলেও এ লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব এবং প্রকৃত আয় এর চেয়েও বেশি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
প্রাথমিক শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর সফল বন্ড বিক্রির মাধ্যমে কোম্পানিটির হাতে বর্তমানে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতে ব্যয়ও ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে স্পেসএক্সের মূলধনি ব্যয় ২৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার।
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রাথমিক শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রায় দুই মাস পর স্পেসএক্স তাদের প্রথম প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করল। কোম্পানিটি আইপিওর মাধ্যমে ৮৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করে এবং তখন এর বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয় প্রায় ১ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন ডলার।
শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুর প্রথম কয়েক দিনে স্পেসএক্সের বাজারমূল্য দ্রুত বাড়ে। একপর্যায়ে এটি অ্যামাজনের বাজারমূল্যকেও ছাড়িয়ে যায় এবং মাইক্রোসফটের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। তবে পরবর্তী সময়ে শেয়ারের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পেসএক্সের শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য ছিল ১৩৫ ডলার। মঙ্গলবার দিনের লেনদেন শেষে প্রতিটি শেয়ারের দাম ১২৫ ডলারের কিছু বেশি থাকলেও বাজার বন্ধের পর লেনদেনে তা একপর্যায়ে ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।
এআই কম্পিউটিং সেবা খাতে প্রবেশের মাধ্যমে স্পেসএক্সের ব্যবসায়িক কৌশলেও বড় পরিবর্তন এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির এআই বিভাগ আগে ইলন মাস্কের পৃথক উদ্যোগ এক্সএআই হিসেবে পরিচালিত হলেও পরে তা স্পেসএক্সের সঙ্গে একীভূত করা হয়।
এআই মডেল উন্নয়নে শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় স্পেসএক্স নতুন কৌশল গ্রহণ করে। টেনেসির মেমফিস শহর ও আশপাশে নির্মিত ডেটা সেন্টারগুলোর অতিরিক্ত কম্পিউটিং সক্ষমতা নিজেদের মডেল তৈরির পরিবর্তে অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কোম্পানিটি।
এরই অংশ হিসেবে অ্যানথ্রপিক ও গুগলের সঙ্গে কম্পিউটিং সক্ষমতা সরবরাহের চুক্তি করে স্পেসএক্স। কোম্পানিটির কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যমান প্রযুক্তিগত অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে নতুন হোস্টিং চুক্তিগুলো থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি মুনাফা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে।
স্টারলিংকের বৈশ্বিক সম্প্রসারণ, এআই অবকাঠামো ভাড়া এবং বিপুল বিনিয়োগ—সব মিলিয়ে মহাকাশ প্রযুক্তিনির্ভর কোম্পানি থেকে বহুমুখী প্রযুক্তি ও কম্পিউটিং প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে স্পেসএক্স।