Thursday, August 6, 2026

৪০ বছরের সর্বনিম্ন পতন ঠেকাতে ইয়েন রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র-জাপানের যৌথ হস্তক্ষেপ


ছবিঃ ১৯ মার্চ, ২০২৫-এ প্রদর্শিত এই চিত্রে জাপানি ইয়েন ও মার্কিন ডলারের নোট দেখা যাচ্ছে (সংগৃহীত । আল জাজিরা /দাদো রুভিচ/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN

মার্কিন ডলারের বিপরীতে চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে পৌঁছে যাওয়া জাপানের মুদ্রা ইয়েনকে স্থিতিশীল করতে যৌথভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান। আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই মুদ্রার বড় ধরনের পতন বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই দুই দেশের এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।

গত ৩১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই হস্তক্ষেপের মাধ্যমে জাপানি মুদ্রার মূল্য ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়। ওই সময় ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময় হার নেমে যায় ১৬৩ ইয়েনে, যা ১৯৮৬ সালের পর সর্বনিম্ন। পরে যৌথ উদ্যোগের পর ইয়েন কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় এবং বুধবার তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি ডলারে প্রায় ১৫৭ ইয়েনে।

মুদ্রাবাজারে কোনো দেশের সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজস্ব মুদ্রার মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা করলে তাকে কারেন্সি ইন্টারভেনশন বা মুদ্রা হস্তক্ষেপ বলা হয়। এবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ইয়েন কিনতে ইউরো বিক্রি করেছে বলে জানা গেছে, পাশাপাশি জাপানের কর্তৃপক্ষও ইয়েন কেনার কার্যক্রম চালিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েনের দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতার পেছনে রয়েছে জাপানের অর্থনৈতিক স্থবিরতা, দীর্ঘদিনের কম সুদের হার এবং আমদানি ব্যয়ের চাপ। ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকে জাপান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বিভিন্ন সময়ে অত্যন্ত কম এমনকি নেতিবাচক সুদের নীতি গ্রহণ করেছে, যা ইয়েনের ওপর চাপ তৈরি করেছে।

দুর্বল ইয়েন একদিকে জাপানের রপ্তানি খাত ও পর্যটন শিল্পকে সুবিধা দিয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি ও আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তাদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

জাপান সরকার ২০২২ সাল থেকে ইয়েনের পতন ঠেকাতে কয়েক দফায় বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। তবে অর্থনৈতিক নীতির সীমাবদ্ধতার কারণে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ শুধু জাপানকে সহায়তা করার জন্য নয়, বরং নিজেদের আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থেও নেওয়া হয়েছে বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ ইয়েন বিশ্বের তৃতীয় সর্বাধিক লেনদেন হওয়া মুদ্রা। এর বড় ধরনের পতন আন্তর্জাতিক অর্থবাজার, বিনিয়োগ প্রবাহ ও ঋণ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম উদ্বেগ হলো, ইয়েনের পতন অব্যাহত থাকলে জাপান বিপুল পরিমাণ মার্কিন ট্রেজারি বন্ড বিক্রি করতে পারে। বর্তমানে জাপানের কাছে এক ট্রিলিয়নের বেশি ডলারের মার্কিন সরকারি বন্ড রয়েছে। এসব বন্ড বিক্রি হলে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে, যা দেশটির ঋণ ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়াবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাময়িকভাবে ইয়েনের পতন ঠেকানো গেলেও দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রার শক্তি ফিরিয়ে আনতে জাপানকে মৌলিক অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনতে হবে। বিশেষ করে সুদের হার বাড়ানো এবং মুদ্রানীতিতে কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্লেষকদের মতে, শুধু বাজারে হস্তক্ষেপ করে দীর্ঘ সময় ইয়েনকে শক্তিশালী রাখা কঠিন। কারণ মুদ্রার প্রকৃত মূল্য নির্ধারণে অর্থনীতির মৌলিক বিষয়গুলোই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, জাপান যদি সুদের হার বাড়ানোর পথে না যায়, তাহলে ইয়েনের দুর্বলতা সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে এলেও ভবিষ্যতে আবারও একই সংকট দেখা দিতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন