Tuesday, October 13, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের জোরপূর্বক শ্রম শুল্ক বাতিল চেয়ে ২৫ অঙ্গরাজ্যের মামলা


ছবিঃ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপ করা ট্রাম্পের শুল্ক ফের মামলার মুখে (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

পারস্পরিক শুল্কের পর এবার জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নতুন শুল্কও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও আইনবহির্ভূত দাবি করে দেশটির ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন ২৫টি অঙ্গরাজ্য যৌথভাবে মামলা করেছে।

স্থানীয় সময় সোমবার নিউইয়র্কের ইউএস কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় নতুন শুল্ক কার্যকরের প্রক্রিয়া স্থগিত করা, শুল্ককে বেআইনি ঘোষণা এবং ইতোমধ্যে আদায় করা অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত বছরের এপ্রিলে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের ওপর পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আদালতের এক রায়ে সেই শুল্কব্যবস্থা বাতিল হয়ে যায়।

এরপর নতুন নীতিগত কাঠামোর আওতায় গত ২৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারের ওপর জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির অভিযোগে ১০ ও সাড়ে ১২ শতাংশ হারে নতুন শুল্ক আরোপ করে। ঘোষণার দিন থেকেই ওই শুল্ক কার্যকর করা হয়।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আইনের একটি ধারা ব্যবহার করেছে।

ওই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো দেশ জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি বা বাণিজ্যে সম্পৃক্ত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করতে পারবে।

তবে মামলায় অংশ নেওয়া অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ, নতুন শুল্ক আরোপের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট তাঁর সাংবিধানিক ও আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। তাদের দাবি, এ ধরনের শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ সীমিত এবং বিষয়টি কংগ্রেসের ক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, শুল্ক আরোপের ফলে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ভোক্তা ও স্থানীয় অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই আদালতের হস্তক্ষেপে শুল্ক কার্যকর স্থগিত করা জরুরি।

পারস্পরিক শুল্ক নিয়ে আইনি জটিলতার পর নতুন এই শুল্কব্যবস্থাও আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যনীতি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন