- ০৫ আগস্ট, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া আটটি ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে বিপজ্জনক মাত্রায় ক্ষতিকর মার্কারির উপস্থিতি পেয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় এসব পণ্যে নির্ধারিত মানের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় মার্কারি শনাক্ত হওয়ায় জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ক্রিমগুলো ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
বিএসটিআই জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন বাজারে নানা ধরনের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমের বিক্রি বেড়েছে। তবে এসব পণ্যের একটি বড় অংশ বৈধ আমদানি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দেশে আসছে না। লাগেজের মাধ্যমে কিংবা বিভিন্ন অবৈধ ও চোরাই পথে এসব প্রসাধনী দেশে প্রবেশ করছে বলে সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
বৈধ আমদানি প্রক্রিয়ার বাইরে দিয়ে বাজারে আসায় এসব পণ্যের মান ও নিরাপত্তা আগেভাগে যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে বাজার থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফর্সাকারী ক্রিম সংগ্রহ করে বিএসটিআইয়ের পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় আটটি ব্র্যান্ডের পণ্যে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রায় মার্কারির উপস্থিতি পাওয়া যায়।
বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় ক্ষতিকর মার্কারি শনাক্ত হওয়া পণ্যগুলো হলো—পাকিস্তানের এস জে এন্টারপ্রাইজের চাঁদনি হোয়াইটেনিং ক্রিম, কিউসিআই কোম্পানির নিউ ফেস বিউটি ক্রিম, লোয়া ইন্টারন্যাশনালের নাভিয়া বিউটি ক্রিম ও নাভিয়া হোয়াইটেনিং ক্রিম, নুর এন্টারপ্রাইজের নুর হোয়াইটেনিং ক্রিম, ক্রিয়েটিভ কসমেটিকসের ডিউ বিউটি ক্রিম এবং গৌরি কসমেটিকস প্রাইভেট লিমিটেডের গৌরি বিউটি ক্রিম। এ ছাড়া চীনের জিএলডিজেবি (হারবিন) কসমেটিকস কোম্পানি লিমিটেডের ন্যাচারাল পার্ল স্ক্রিন ক্রিমেও বিপজ্জনক মাত্রায় মার্কারি পাওয়া গেছে।
সংস্থাটি বলছে, নির্ধারিত মানের তুলনায় অতিরিক্ত মার্কারিযুক্ত প্রসাধনী দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে ত্বকসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এসব পণ্য ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জনস্বাস্থ্যের বিষয়ে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। ভোক্তাদের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংস্থাটি নিয়মিত বাজার তদারকি ও পণ্যের মান যাচাই করছে।
বিএসটিআই আরও জানিয়েছে, অবৈধ পথে দেশে আসা অননুমোদিত ও মান যাচাই না করা প্রসাধনী ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভোক্তাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। পণ্য কেনার আগে অনুমোদন, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট মানচিহ্ন যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।