- ০৩ আগস্ট, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ও গ্যাস সংকট মোকাবিলায় মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে আগ্রহ দেখিয়েছে সরকার।
রোববার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোয়ের সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা পূরণে মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানির বিষয়ে বাংলাদেশ বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের এ প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অতীতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ নিয়ে যে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছিল, তা নতুন করে শুরু করার আগ্রহের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ।
বৈঠকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত পাইপলাইনের পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আকারেও বাংলাদেশে গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রস্তাব দেন। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী এ প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এগিয়ে নিতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকের প্রস্তাবও দেন ইকবাল হাসান মাহমুদ। এ সময় তিনি মিয়ানমারের জ্বালানিমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানোর কথা বলেন।
প্রয়োজনে নিজেও মিয়ানমার সফর করে জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী বলে জানান তিনি।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের প্রসঙ্গও উঠে আসে। মন্ত্রী বলেন, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর গড়ে তোলার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে গ্যাস পাইপলাইন নির্মিত হলে ওই করিডোর বাস্তবায়নেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের যৌথ কারিগরি কমিটির একটি বৈঠক আয়োজন করে সম্ভাব্য গ্যাস সরবরাহের কারিগরি, অবকাঠামোগত ও বাণিজ্যিক দিকগুলো পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
দেশে গ্যাসের চাহিদা বাড়তে থাকায় নতুন উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে কাজ করছে। মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানির উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।