Saturday, September 26, 2026

যুক্তরাজ্যে লেবার সম্মেলনের আগে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের ডাক, গ্রেপ্তারের আশঙ্কা


ছবিঃ নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন জানানোর দায়ে ৩,৬০০-এরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। (সংগৃহীত । আল জাজিরা /জেইমি জয়/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলন ঘিরে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আগামী রোববার লিভারপুলে সম্মেলনকেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় ‘নীরব অবস্থান’ কর্মসূচির আয়োজন করছে অধিকারকর্মীদের সংগঠন ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস’।

সংগঠনটির দাবি, ফিলিস্তিন অ্যাকশনকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, কয়েক শ মানুষ এতে অংশ নিতে পারেন। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা করছে।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাজ্য সরকার ফিলিস্তিন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ করার পর থেকে সংগঠনটির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন নাগরিক অবাধ্যতা কর্মসূচিতে ৩ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস জানিয়েছে। এসব কর্মসূচিতে অনেককে ‘আমি গণহত্যার বিরোধী, আমি ফিলিস্তিন অ্যাকশনকে সমর্থন করি’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে দেখা গেছে।

আয়োজকদের ভাষ্য, এবারের কর্মসূচি নতুন সরকারের ফিলিস্তিন নীতি এবং ইসরায়েল-সংক্রান্ত অবস্থানের একটি ‘পরীক্ষা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারা বার্নহাম সরকারের কাছে ফিলিস্তিন অ্যাকশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

তবে যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আইনি বিতর্কও চলছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি নিম্ন আদালত নিষেধাজ্ঞাটিকে অবৈধ বললেও জুনে আপিলের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত উল্টে যায়। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টে নেওয়ার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর অ্যান্ডি বার্নহামের সরকার ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিষয়ে আগের সরকারের তুলনায় কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। চলতি মাসে তাঁর সরকার অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবৈধ বসতিতে পণ্য বাণিজ্য নিষিদ্ধ করা এবং বসতি সম্প্রসারণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে।

বার্নহাম একই সঙ্গে গাজায় মানবিক পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে তাঁর অবস্থানের কথা বলেছেন। তবে ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন অধিকার সংগঠন লেবার সরকারের কাছে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ এবং ফিলিস্তিন অ্যাকশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে।

লেবার পার্টির সম্মেলনে ফিলিস্তিন ইস্যুতে আরও আলোচনার সম্ভাবনাও রয়েছে। দলটির অভ্যন্তরে গাজা নিয়ে সরকারের নীতি পরিবর্তনের দাবি আগেও উঠেছে এবং সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে নতুন প্রস্তাব আসতে পারে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

এদিকে সম্মেলন কভার করতে চাওয়া অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ‘ডিক্লাসিফায়েড ইউকে’কে মিডিয়া পাস না দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, লেবার সম্মেলন কাভারের জন্য তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

রোববার থেকে বুধবার পর্যন্ত লিভারপুলে লেবার পার্টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি হবে বার্নহামের প্রথম দলীয় সম্মেলন। ফলে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বিক্ষোভ এবং দলটির অভ্যন্তরীণ বিতর্ক দুটিই সম্মেলনজুড়ে বাড়তি মনোযোগ পেতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন